প্রিজাইডিং অফিসারদের মেরুদণ্ড সোজা রাখতে বললেন ডিসি জাহিদুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং অফিসারদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তি হলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং অফিসার।’

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচন কমিশন শুধু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। কাউকে প্রার্থী হতে আহ্বান জানায় না। রিটার্নিং কর্মকর্তাই মনোনয়ন গ্রহণ থেকে শুরু করে নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মনোনয়ন আহ্বান, মনোনয়ন দাখিল, যাচাই-বাছাইসহ পুরো প্রক্রিয়াজুড়েই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব থাকে।

তিনি আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হলে সততা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইনানুগ প্রক্রিয়া শতভাগ অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় মুখ্য আলোচক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের রাজার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রে আপনারাই হচ্ছেন শেষ ব্যক্তি। আপনারা একটি ভূখণ্ডের রাজা।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান ভোট সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আপনারা নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করুন। পুলিশ আপনাদের নিরাপত্তায় ঢাল হিসেবে থাকবে।’

সভাপতির চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা  মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রিজাইডিং অফিসার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের সামনে দেশকে কিছু দেওয়ার সুযোগ এসেছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আমাদের মেরুদণ্ড শক্ত করতে হবে এবং বিবেককে মজবুত রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে সাহস ও নিরপেক্ষতা না থাকলে দেশপ্রেম দেশ গ্রহণ করবে না। সরকার যে ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, জীবনকে সার্থক করার এটাই একটি বড় সুযোগ- দেশকে কিছু দেওয়ার সুযোগ।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সামনে একটি পবিত্র দায়িত্ব রয়েছে—উৎসবমুখর পরিবেশে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন উপহার দেওয়া। ব্যক্তিগতভাবে কারও রাজনৈতিক পছন্দ থাকতেই পারে, তবে তা প্রকাশ করার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যেমন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তেমনি দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ধাপ কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

গণভোট বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ভোটাররা এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হবে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া, যাতে কেউ বিভ্রান্ত না হয়। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, শতভাগ নিরপেক্ষতার সঙ্গে চট্টগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক মানের গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাচন অফিস। এতে সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রায় দুই হাজার প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার অংশ নেন। দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে নির্বাচন পরিচালনা ও গণভোট সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।