জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন ‎মাসুদ রানা প্রধান

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১২:১৩ এএম

‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও সংসদ সদস্য হতে পারেননি জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান। তবে দল তাঁকে নিরাশ করেনি। এবার তাঁকে জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৫মার্চ) স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সোমবার (১৬মার্চ) জেলা পরিষদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন মাসুদ রানা প্রধান। এতদিন জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। মাসুদ রানা প্রধান জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায়  বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। মাসুদ রানা প্রধানের নেতৃত্বে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকান্ড আরও গতিশীল হবে তাঁরা মনে করছেন।

‎ জেলা পরিষদ স্থানীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জেলার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান, সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নসহ নানা ধরনের উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণত নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমানে নির্বাচিত পরিষদ না থাকায় প্রশাসকের নিয়োগদানের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

‎দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র জীবন থেকে মাসুদ রানা প্রধান জয়পুরহাটে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের পদে আছেন। তাঁর বাবা প্রয়াত মোজাহার আলী প্রধান জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ও দীর্ঘ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপির হাফ ডজন নেতাকে  টপকিয়ে  মাসুদ রানা প্রধান দলীয় মনোনয়ন পান। তিনি  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।  শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী মো. ফজলুর রহমান সাঈদের সাথে হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ে তিনি পরাজিত হন। তবে তিনি জাতীয়  সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও দল তাঁকে নিরাশ করেনি। সংসদ  নির্বাচনের ৩৩ দিনের মাথায় জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে তাঁকে নিয়োগ  দিয়েছে সরকার।

‎এ ব্যাপারে মাসুদ রানা প্রধান তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোষ্ট দিয়েছেন। ওই পোষ্টে তিনি  লিখেছেন, ‘সর্ব প্রথমে মহান আল্লাহতালার নিকট শুকরিয়া আদায় করছি। সেই সঙ্গে  বিএনপির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমাকে জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি হেরে যাইনি। আমাকে ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। তাই সকল ষড়যন্ত্রকারী, বেইমান ও মুনাফিক বিএনপি নেতাদের কারণে জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপি জয়ী হতে পারেনি। অতি শীঘ্রই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাঠগড়ায় তাদের বিচার হবে ইনশাআল্লাহ। যে পবিত্র ঈমানী দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত হয়েছে তা যেন আমি সঠিকভাবে পালন করতে পারি। আমি জয়পুরহাটবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।’

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত