মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে নতুন উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত মিলেছে। ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ সামনে আসার পর দেশটির প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ও শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জুমার নামাজে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের প্রভাবশালী ইমাম মোহাম্মদ জাভেদ হাজ আলী আকবরী বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাঁর ভাষায়, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র যে বিপুল অঙ্কের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ করেছে, সেগুলো ইরানের নজরদারির আওতায় রয়েছে। তবে কোন কোন বিনিয়োগের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের নৌবহর অগ্রসর হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর ওই মন্তব্যের পরই তেহরান থেকে এই সতর্কবার্তা আসে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এর আগে ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, সংলাপের প্রস্তাবের আড়ালে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি গত বছর জুনে সংঘটিত ১২ দিনের সংঘাতের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই পরিস্থিতি থেকে পাওয়া শিক্ষা ভুলে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

পাকপৌর আরও জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুত রয়েছে এবং দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তারা সচেষ্ট। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, ইরান তার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত।

সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক এই বক্তব্যগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কূটনৈতিক সমাধানের বদলে উত্তেজনামূলক ভাষা পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যাবে—সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।