‌‌‘আমরা দেশ ও জাতিকে আর টুকরো টুকরো করতে চাই না’

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩২ এএম

দেশ ও জাতিকে আর কোনোভাবে খণ্ডিত করার রাজনীতি চায় না জামায়াতে ইসলামী—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিভাজন নয়, বরং সাম্য ও ঐক্যের পথে এগোতেই হবে। এই লক্ষ্যেই দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যের ডাককে শক্তিতে রূপ দিতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নির্বাচনে জনগণের সেবা করার সুযোগ মিললে আগামী পাঁচ বছর সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনার প্রস্তাবও দেন তিনি। তবে সে ক্ষেত্রে তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করেন—দূর্নীতি করা যাবে না, কাউকে দূর্নীতির আশ্রয় দেওয়া যাবে না এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে বস্তা পঁচা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে এবং দুর্নীতি যেন সমাজে আর অবাধে চলাফেরা করতে না পারে—এমন একটি দেশ ও সমাজ গড়ার জন্য দেশবাসী অধীর অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষ করে যেসব যুবক গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়েছে, তারা এই প্রত্যাশা নিয়ে মুখিয়ে আছে। তাদের প্রতি দলটির দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যতদিন লড়াই চালাতে হবে, জামায়াত প্রস্তুত রয়েছে। এই লড়াই থামবে না; জনগণ ও যুব সমাজের প্রত্যাশা পূরণ হলেই তা পূর্ণতা পাবে।

তিনি বলেন, ৫ তারিখের পরিবর্তনের পর ধারণা করা হয়েছিল পতিত সরকার থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে—মানুষের সম্পদ, ইজ্জত ও জীবনের দিকে আর হাত বাড়ানো হবে না। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ঘোষণা ছিল একজনও সাধারণ নিরীহ মানুষকে অভিযুক্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না এবং কাউকে মামলায় আসামি বানানো হবে না। সেই কারণেই হাজার হাজার মামলা না করে মাত্র ৮টি মামলা করা হয়েছে, যেখানে আসামি একজন করে। 

তিনি বলেন, কেউ প্রতিহিংসা কিংবা লোভ-লালসার শিকার হয়ে যেন একদিনের জন্যও জেলের ভাত না খায়—এটাই তাদের অবস্থান। সাড়ে ১৫ বছর দফায় দফায় কারাভোগের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা নিজেরা মজলুম হয়েছি, কিন্তু কাউকে মজলুম বানাতে চাই না।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াত সাম্যভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়। যেসব যুবক মৌলিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলেছিল, তাদের স্বপ্নের ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গড়াই লক্ষ্য। তবে এই বাংলাদেশ গড়ার কথা যারা বলবে, তাদের নিজেদের চরিত্র দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে তারা এ দায়িত্বের উপযুক্ত। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো অসৎ ও দুর্নীতিবাজ যদি মধুর ভাষায় গল্প শোনায়, তাদের কথা বিশ্বাস করা যাবে না। নির্বাচনে তারা রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষকে চতুর্থ আসমানে তুলবে—এরা ধোঁকাবাজ, তাদের চিনে রাখতে হবে। তাদের ‘ইয়েস’ নয়, বলতে হবে—তোমাদের জন্য লাল কার্ড।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তারা কাউকে বেকার ভাতা দিতে চান না এবং দেশে বেকারের কারখানা গড়ার পক্ষেও নন। বরং প্রত্যেক কর্মক্ষম নারী-পুরুষের দুই হাতকে দক্ষ করে গড়ে তুলে বেকারদের হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

নারীদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন তুলছেন নির্বাচিত হলে কর্মক্ষেত্রে মা-বোনেরা সুযোগ পাবে কি না। তিনি যুক্তি দেন, ঘরের ভেতরে যদি নারী চলতে পারে, তাহলে সমাজে চলতে পারবে না কেন। ঘর যেমন নারী ছাড়া চলে না, সমাজও নারী ছাড়া চলে না। দক্ষতা অনুযায়ী সব জাতি ও ধর্মের নারীদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলেও তিনি জানান।

রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, শিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, রংপুর-১ আসনের প্রার্থী রায়হান সিরাজী, রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানী এবং রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিনসহ জামায়াত ও শিবিরের নেতারা।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রার্থীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের জয়যুক্ত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত