ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে অস্বীকৃতি জানানো বাংলাদেশকে অন্যায্যভাবে আচরণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়্যারম্যান ও এসিসি প্রেসিডেন্ট মোহসিন নকভি। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মতো একটি বড় অংশীদার দেশকে যে আচরণের মুখে পড়তে হচ্ছে, তা গ্রহণযোগ্য নয় এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত।
মোহসিন নাকভি, যিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও, শনিবার লাহোরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বোর্ড সভাতেও আমি একই কথা বলেছি। দ্বৈত নীতি চলতে পারে না—এক দেশের জন্য এক ধরনের সিদ্ধান্ত, আরেক দেশের জন্য সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ, এটা হতে পারে না।”
নকভির ভাষায়, “এই কারণেই আমরা স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি যে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদের বিশ্বকাপে খেলতে দেওয়া উচিত। তারা একটি বড় অংশীদার, তাদের প্রতি এই অবিচার করা ঠিক নয়।” নকভি জোর দিয়ে বলেন, “একটি দেশ অন্য দেশকে নির্দেশ দিতে পারে না। যদি এমন নির্দেশনা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে পাকিস্তানের অবশ্যই নিজস্ব অবস্থান থাকবে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতোই আইসিসির পূর্ণ সদস্য। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—পাকিস্তান ও ভারতের ক্ষেত্রে যদি এই সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশকেও একই সুবিধা দিতে হবে।”
আরও এক প্রশ্নের জবাবে নকভি জানান, আইসিসির প্রতি তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে ‘হাইব্রিড মডেল’ প্রস্তাবের কথাও ভাবছেন, যেমনটি ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছিল।
বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নকভি বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তান সরকার। “আমরা প্রধানমন্ত্রীর ফিরে আসার অপেক্ষায় আছি। তিনি দেশে ফেরার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে,” বলেন তিনি। পাকিস্তান নিজেও বিশ্বকাপে না খেললে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আগে সিদ্ধান্ত আসুক। আমাদের কাছে প্ল্যান এ, বি, সি, ডি—সবই আছে।”