ভোটে নেই আওয়ামী লীগ কদর বেড়েছে সমর্থকদের

যশোর শহরের পশ্চিমপ্রান্ত ঘেঁষে আরবপুর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের ধর্মতলা কদমতলা থেকে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন যশোর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। প্রচারণার শুরুর দিন যশোরের হারানো রাজনৈতিক সৌহার্দ্য-সহাবস্থান ফিরিয়ে আনার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। অমিত এর আগেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলেছেন যশোর হবে ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক সম্প্রীতির তীর্থভূমি। তিনি ছুটে যাচ্ছেন সবশ্রেণির মানুষের কাছে। আর দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে ভোট চাইছেন।

শুধু বিএনপির প্রার্থী নন; জামায়াত ইসলামীসহ অন্য দলের প্রার্থীরাও দল-মত নির্বিশেষে ভোট চাইছেন। বিশেষ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ‘আওয়ামী লীগের ভোটের’ দিকে রয়েছে তাদের বাড়তি নজর। চায়ের দোকানে, পথে-ঘাটে কুশল বিনিময় করে ভোট চাইছেন। কোন কোন প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের বাড়িতেও ছুটছেন। সবমিলে কদর বেড়েছে আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোটারদের।

বর্তমানে বাড়ি-ঘর ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে থাকা আওয়ামী লীগের তিনজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ৫ পাঁচজন উপজেলা পর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। জেলা পর্যায়ের এক নেতা বলেন, আমরা এলাকা নেই। কিন্তু পরিবার পরিজন রয়েছে। আমাদের সঙ্গে হোয়াটঅ্যাপসে কিংবা টেলিগ্রাম অ্যাপসে প্রার্থী ও তাদের দলের নেতারা যোগাযোগ করছেন। সমর্থন ও দোয়া চাইছেন।

যশোর ছাত্রলীগের সাবেক স্কুলবিষয়ক সম্পাদক সরদার ফরিদ বলেন, পদধারী কোনো নেতা এলাকায় নেই। তারা সবাই পলাতক। কর্মীদের অনেকে বাড়িতে আছেন। কারও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল হয়ে গেছে। ওদের সঙ্গে মিলেমিশে কেউ কেউ প্রতিষ্ঠান ফেরত পেলেও ভয়ে ভয়ে দিনযাপন করেন। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি ও জামায়াতের লোকজন আসছে। ভোট চাইছেন। তারা বলছেন, ক্ষমতায় গেলে কোনো মামলা-মোকদ্দমা হতে দেব না। নিরাপদে থাকবেন। আমাদের প্রতীকে ভোট দিন।

এ বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘ভোটারদের আমরা ভোটার হিসেবে দেখতে চাই। তারা আওয়ামী লীগ হোক কিংবা অন্য দলের হোক সেটি বিবেচনার বিষয় নয়। আমরা সবার কাছেই ভোট চাই। সব শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে ভোট চাই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যশোর সদরের ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য বলেন, আমাদের এলাকায় যারা আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে পরিচিত-তাদের কাছে সব দলের পক্ষ থেকে ভোট চাওয়া হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লার কর্মীরা।

যশোর শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা বলেন, তার পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা। বিনিময়ে তারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইছেন। আর স্থানীয় বিএনপির নেতারা দেখা হলে সুন্দর ব্যবহার করছেন। স্বাস্থ্য ও ব্যবসা বাণিজ্যের খোঁজ নিচ্ছেন।

যশোর-৩ আসনে জাগপার প্রার্থী নিজামউদ্দিন বলেন, ‘কে কোন দল করে সেটা আমার বিষয় না। আওয়ামী লীগ করেছে বলে তারা খারাপ আমি সেটা মনে করি না। আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের ভাই, বন্ধু স্বজন। আমি তাদের ভোটার হিসেবে দেখি। এ জন্য আমি তাদের ভোট প্রত্যাশী।’

একই কথা বলেছেন যশোর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়াই তো প্রার্থীদের কাজ। নির্বাচনে দাঁড়িয়ে দল বা ধর্ম দেখলে চলে না। সবার কাছেই যেতে হবে। একজন প্রার্থী হিসেবে আমি সেটাই করছি।’