চেয়ারম্যান, তার সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

শরীয়তপুর সদরের শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাষানী খানসহ তার সমর্থকদের ৯টি বাড়ি ভাঙচুর ও তিনটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। সদর উপজেলার চরগয়ঘর এলাকায় গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চারজন আহত হন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান ভাসানীর বাড়ির আঙ্গিনা থেকে তিনটি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ভাষানী শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। তিনি গত ১৭ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগদান করেন। বিএনপিতে যোগদানের সাত দিনের মাথায় তার ও তার সমর্থকদের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ভাষানী খান ২০২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিজয়ী হন। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের অনুসারী হিসেবে এলাকার রাজনীতিতে পরিচিত ছিলেন ভাষানী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর কিছু দিন আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এলাকায় ফিরে আসেন। গত ১৭ জানুয়ারি শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলামের একটি সভায় উপস্থিত হয়ে ভাষানী তার অন্তত ৫ শতাধিক সমর্থক নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন।

শুক্রবার রাতে হেলমেট ও মাস্ক পরে দুর্বৃত্তরা প্রথমে ভাষানীর বাড়িতে হামলা চালায়। ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা ভাষানীর সমর্থকদের আরও আটটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং তিনটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট হয়। নারীসহ আহত হন চারজন। ঘটনার সময় ইউপি চেয়ারম্যান ভাষানী বাড়িতে ছিলেন না।

ভাষানীর শাশুড়ি রাশিদা বেগম বলেন, আমি বাড়িতে ছিলাম। ককটেলের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এরপর ১৫-২০ জন দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। তার টাকা-স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। কেন এবং কারা এ হামলা চালিয়েছে তা এখন বুঝতে পারছি না।’

ভাষানীর সমর্থক ইদ্রিস খানের বাড়ির বসতঘর ও ঘরের জিনিষপত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা বিএনপিতে যোগদান করেছিলাম। এ কারণে স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। ওই পক্ষটি কয়েক দিন ধরে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল।’

ঘটনার খবর শুনে গতকাল শনিবার সকালে সেখানে যান বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্ট দায়ক। এভাবে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি নির্বাচনের পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলবে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অনুরোধ করেছি। এ হামলাকারীরা যে দলের হোক তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

শরীয়তপুর সদরের চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক গোলাম রাসুল বলেন, শৌলপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িসহ ৯টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় তিনটি ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।