২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ার দিনেই জাতীয় দলে সাকিব আল হাসানকে অন্তর্ভুক্ত করার সবুজ সংকেত দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। গতকাল শনিবার বিসিবি পরিচালকদের দীর্ঘ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, এই অলরাউন্ডার ফিট এবং অ্যাভেইলেবল থাকলে তাকে জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করা যাবে।
২০২৬ সালের জন্য বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ২৭ ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিসিবি।
কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখা ক্রিকেটারদের তালিকা তৈরির সময়ই সাকিবের কথা বিবেচনা করা হয় বলে জানিয়েছেন আমজাদ। তিনি আরও বলেন, আমাদের বোর্ডে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যদি সাকিব অ্যাভেইলেবল থাকেন, ফিটনেস থাকে ও ভেন্যুতে উপস্থিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকে তাহলে বোর্ড বা নির্বাচক প্যানেল তাকে দলে নেওয়ার জন্য বিবেচনা করবে। সাকিব ২০২৪ সালে কানপুর টেস্টে ভারতের বিপক্ষে সবশেষ বাংলাদেশের হয়ে খেলেছিলেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে হত্যা, চেক জালিয়াতি, স্টক মার্কেটে অবৈধ যোগসাজশে সম্পত্তি অর্জনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনও হলফনামায় সম্পত্তি লুকানো, মানি লন্ডারিং, সোনাপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। সাকিব আমেরিকাপ্রবাসী উম্মে আহমেদ শিশিরকে বিয়ে করার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন।
২২ আগস্ট ২০২৪ তারিখেই বাংলাদেশের তদানীন্তন সব সংসদ সদস্যদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কানাডায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে থাকা সাকিব পরে আর বাংলাদেশেই আসেননি। যদিও কানপুর টেস্টে নিজের বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আশা প্রকাশ করেছিলেন দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলে বা মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলে তিনি দেশের মাটিতে অবসর নিতে চান। তবে সাকিবের রাজনৈতিক পরিচয় ও জুলাই আন্দোলনের ভূমিকার কারণে বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা স্টেডিয়াম ঘেরাও করে রাখে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাকিবকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়, এরপর সাকিব আর জাতীয় দলে খেলেননি। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তার উপস্থিতি এখন আগের চেয়ে বেশি। এসব ক্ষেত্রে আদৌ বিসিবির অনাপত্তিপত্রের তোয়াক্কা সাকিব করছেন কি না কে জানে, তবে বিসিবি পরিচালক আমজাদ বলেছেন, ‘সাকিব অন্যান্য বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোয় অংশগ্রহণ করতে পারবে। বোর্ড তাকে অনাপত্তিপত্র দেবে প্রয়োজন অনুযায়ী। দেশে এবং দেশের বাইরে সব সিরিজের জন্যই নির্বাচক প্যানেল তাকে বিবেচনা করবে।’ এই বৈঠকেই কেন সাকিবকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা, সেটা বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়াকে আড়াল করার জন্যই কি না এমন প্রশ্নে আমজাদ বলেছেন, ‘আজকে আমাদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা সব ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স, অ্যাভেইলেবিলিটি নিয়ে রিভিউ করা হয়েছে, ওখান থেকে অ্যাভেইলেবল ক্রিকেটার কাকে কাকে রাখা হবে এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে, ওখান থেকে আমাদের আলোচনাটা এসেছে। এতদিন কি ছিল জানি না, আজকে বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটা আমি জানাচ্ছি।’
ক্রিকেট বোর্ড পরিচালক আসিফ আকবর যোগ করেন, ‘ আমাদের বৈঠকের একটা এজেন্ডা ছিল ক্রিকেট অপারেশনসের যে ২৭ জন চুক্তিবদ্ধ হবে সেই খেলোয়াড় তালিকা ও গ্রেডেশন নিয়ে। এই প্রসঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষেই একজন পরিচালক প্রস্তাবনা দিয়েছেন যে সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আগ্রহী, সাকিবের সঙ্গে কথাও হয়েছে আমাদের, সে খেলতে চায়। আমরা বিসিবি থেকে তার ফিটনেস, অ্যাভেইলেবলিটি এসব দেখব। তার ব্যক্তিগত যে বিষয় আছে, ওগুলো তার নিজস্ব। সেগুলো সরকার যদি অ্যালাও করে বা সরকার কীভাবে ফেস করবে সেসব সরকারের বিষয়। কিন্তু আমরা বোর্ডের পক্ষ থেকে সাকিবকে চেয়েছি, এটা হল মূল কথা।’