আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত ও দুর্নীতি দমন করাই প্রধান অগ্রাধিকার হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে ‘আমার ভাবনা বাংলাদেশ’ শিরোনামে রিল নির্মাণ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দেশের বহু সমস্যার সমাধানে এই দুটি বিষয়ই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রথমেই আমাদের একটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে আইনশৃঙ্খলা। অর্থাৎ মানুষ যা বলছে, আপনারা যা বলছেন সবাই যেন রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারে। আর দুর্নীতি যেভাবেই হোক, আমাদের এটি মোকাবিলা করতে হবে।’
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি রয়েছে এবং আমাদের বিভিন্ন উপায়ে তা মোকাবিলার চেষ্টা করতে হবে। আমরা যদি এই দুটি বিষয় সঠিকভাবে সমাধান করতে পারি, তাহলে দেশের আরও অনেক সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে। এটাই আমার পরিকল্পনা।’
বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে ওই আলাপচারিতার সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। বিজয়ীরা তাদের নানা জিজ্ঞাসা তারেক রহমানের সামনে তুলে ধরেন। তারেক রহমান সেসব বিষয়ে খোলামেলা জবাব দেন।
ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবে, স্বামীহারা নারীরা কি ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, এমন প্রশ্নও আসে। জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘সিংগেল মাদার ব্রাইড, যারা বিভিন্ন রকম সমস্যার মধ্যে আছেন, স্বামী ছেড়ে গেছেন, দেখুন, আপনি যদি দেখেন, আমার ধারণা আছে, বাংলাদেশ গভর্নমেন্টের এই সোশ্যাল সেফটির আওতায় ১৩৮টি প্রজেক্ট চালু হয়েছে। কিন্তু এগুলো ঠিক নেই। আপনার রিসোর্স নষ্ট হচ্ছে। একজন তিনটা সাপোর্ট পাচ্ছে, আরেকজন একটা পাচ্ছে না। আমরা এই জিনিসটাকে একটু অর্গানাইজ করতে চাচ্ছি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে। আমরা এটাকে ইউনিভার্সালির জন্য রেখেছি।’
উদাহরণ হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘যেমন একজন কৃষকের স্ত্রীও (ফ্যামিলি কার্ড) পাবেন, একজন ভ্যানচালকের স্ত্রী, উনিও পাবেন, আরেকজন অফিশিয়াল, তার ওয়াইফও পাবেন।’
অনলাইনে নানা নিপীড়নের বিষয়ে মিডিয়া কথা বলে না, কেউ কথা বলে না, আইনে কী আছে তাও জানি না এই বিষয়ে নিজের জিজ্ঞাসাগুলোর জবাব কী হতে পারে প্রশ্ন করলে তারেক রহমান বলেন, ‘জিনিসটাকে আমরা এভাবে দেখি। আমাদের এডুকেশন নিয়ে যে রিলটা বানিয়েছেন আপনারা ওখানে কিন্তু দুটো দিক আছে। ওখানে আপনারা বলেছেন যে, প্রাইমারি লেভেল থেকে আমরা কতগুলো কাজ করছি। আমি একটা ঘটনা বলি। ঘটনাটা কী? আমার পরিচিত আমাদের পরিচিত একটা ফ্যামিলি। তো ওদের একটা ছেলে আছে ১২/১৩ বছর বয়স। এটা আমি আরও পাঁচ-ছয় বছর আগের কথা বলছি। একদিন ওর বাবার সঙ্গে গাড়িতে উঠেছে। ফর সাম রিজন ওর বাবা সিট বেল্ট লাগায়নি। ছেলে বলছে- বাবা তুমি সিট বেল্ট লাগাও। বলে যে, না অল রাইট। ছেলেটা বলল, তুমি সিট বেল্ট না লাগালে টিচার বলেছেন, আমি নেমে যাব। অর্থাৎ দেখেন এটাকে আমি বোঝাতে চাচ্ছি, এই যে সামাজিক মূল্যবোধ এই জিনিসগুলো আমাদের স্কুলে শেখাতে হবে। নতুন নতুন তিন তলা-চার-পাঁচ তলা স্কুলের বিল্ডিংয়ের বাজেটটা দিয়ে প্রাইমারি টিচারদের মোর কোয়ালিফাই করতে চাচ্ছি।’
বাচ্চারা মোবাইলের ওপর আসক্ত হয়ে নেগেটিভ জিনিসগুলো দেখে সেক্ষেত্রে কী করা যায়? একজন প্রশ্ন করলে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনাটা হচ্ছে- আব্বার (জিয়াউর রহমান) সময় নতুন কুঁড়ি নামে একটা অনুষ্ঠান ছিল। এটা অবশ্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আবার চালু করেছে। আমাদের পরিকল্পনায় স্পোর্টস নিয়ে একটা পরিকল্পনা আছে। একটা বাচ্চা যখন ছয় বছর, সাত বছর, আট বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর, ১৮ বছর আমরা সবাই এই স্টেজটা পার হয়ে এসেছি। এই স্টেজে কিন্তু মানুষের শারীরিক এবং মানসিক অনেক এনার্জি থাকে। তো আপনাকে তো এনার্জিটাকে বার্ন করতে হবে। আপনাকে যদি সঠিক জায়গা দেওয়া হয় তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় বার্ন করবেন। আমাদের এডুকেশন সিস্টেমটাকে যেটা যেভাবে সাজাতে চাচ্ছি।’
স্কুল পর্যায়ে সিলেবাসে ক্রীড়া, তৃতীয় ল্যাংগুয়েজ, আবৃত্তি, কলা, গান, শিল্প-সংস্কৃতি বিষয় যুক্ত করার বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ গভর্নমেন্ট ফর্ম করলে আমরা এডুকেশন মিনিস্ট্রি, কালচারাল মিনিস্ট্রি, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি মিনিস্ট্রি, স্পোর্টস মিনিস্ট্রি এই চারটা মন্ত্রণালয়কে একটি টিম করে কাজ করব।’
অনলাইনে হেরাসমেন্ট বিষয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান নিজের ভাবনা তুলে ধরে বলেন, ‘অনলাইনে হেরাসমেন্ট রোধে আমাদের বুঝা উচিত সিস্টেম হ্যাকিং রিপোর্টিং কীভাবে হয়? রিপোর্টিং সিস্টেম হয়তো-বা করতে লাগবে, কমিউনিটি ডেস্ক যদি করা যায়, হয়তো-বা যদি এলাকায় কিছু ঘটে তাহলে ওখানে এলাকার মানুষরাই জিনিসটাকে ম্যানেজ করতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘মেট্রো রেলটা তুলনামূলক কস্টলি। মনোরেলটার যেটা সুবিধা যে কোনো জায়গায় বসিয়ে দিতে পারবেন, আবার উঠিয়েও দিতে পারবেন। মনোরেলে খরচ কমে যাবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা ভালো হবে।’
আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র, তারেক রহমানের ছোট ভাই এবং ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে গুলশান বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকেই বনানী কবরস্থানে কোকোর কবরের পাশে কোরআন তেলাওয়াত করেন আলেম ও হাফেজরা। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
৪ জেলায় ৬ জনসভা আজ
সিলেটের পর আজ রবিবার চট্টগ্রাম থেকে শুরু হচ্ছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দ্বিতীয় নির্বাচনী প্রচারাভিযান। এদিন তিনি চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের ৬টি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহাদী আমীন গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ (গতকাল) চট্টগ্রামে যাচ্ছেন। সফরের শুরুতে তিনি আজ (গতকাল) রাত ৭টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন।’ তিনি বলেন, ‘আগামীকাল অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায় একটি হোটেলে তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে ‘ইউথ পলিসি টক’-এ অংশগ্রহণ করবেন। এই পলিসি টকে তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন, পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির পলিসি নিয়ে আলোচনা করবেন, মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম পোলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন।’ তিনি আরও জানান, ‘এরপর বিএনপি চেয়ারম্যান ফেনী পাইলট স্কুল মাঠ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠ, সোয়াগাজীর ডিগবাজি খেলার মাঠ, দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এবং নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে বক্তব্য রাখবেন।’
তিনি জানান, ‘সিলেট সফরের মতো চট্টগ্রাম সফরেও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের ত্যাগী নেতারা চেয়ারম্যানের সফরসঙ্গী হবেন।’
গত ২২ জানুয়ারি তারেক রহমান সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে শুরু করেছিলেন নির্বাচনী প্রচারাভিযান। ওই দিন সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জের ৭টি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তিনি।