ফ্যামিলি কার্ডের নামে ভোট কেনার কৌশল করা হচ্ছে

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের নামে ভোট কেনার কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এগুলো এক ধরনের ভোট কেনার প্রক্রিয়া। কিন্তু মানুষ আসলে এটাতে অত সাড়া দিচ্ছে না, বিশ্বাসও করছে না। কারণ, মানুষ এর আগেও এ ধরনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কথা বিভিন্নভাবে শুনেছে। তারা আগের চেয়ে যথেষ্ট সচেতন হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এদিন নাহিদ ইসলাম ভাটারা থানা, বাঁশতলা, সুবাস্তু মার্কেট, ১০০ ফিট অটোস্ট্যান্ডসংলগ্ন সাইদনগর, বড় মসজিদের সামনের গলি, ইসহাক খানের বাসার সামনেসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান এবং উঠান বৈঠকে অংশ নেন। প্রচারণায় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসসহ ১০-দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির দিকে ইঙ্গিত করে নাহিদ বলেন, ‘একটা প্রতিশ্রুতি দিলেই হয় না। মানুষ প্রশ্ন করে, কীভাবে সেটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে। তারা বিভিন্ন মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে। আসলে বাস্তবায়নের কোনো রূপরেখা তাদের নেই। ১৬ বছর পরে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিস্থিতি ও পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমরা মানুষকে উৎসাহিত করছি, যাতে মানুষ নির্বিঘেœ, নির্ভয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে আসেন।’

নাহিদ আরও বলেন, ‘এবারের ভোটটা একেবারেই নতুন এবং বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের ভোট যেহেতু গণভোটও একসঙ্গে হচ্ছে। মানুষ যাতে এই ভোট দিতে ভয় না পায়। কারণ, আমরা দেখছি, বিভিন্ন এলাকায় এমনকি আমার এলাকায়ও এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে।’

প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থীরা আচরণবিধি মানছেন না বলে অভিযোগ করে নাহিদ বলেন, ‘কোনো ধরনের আচরণবিধি এর আগেও মানা হয়নি, এখনো মানা হচ্ছে না। বিদ্যুতের তারে পোস্টার ঝোলানো হচ্ছে। আমাদের ব্যানার বা বিভিন্ন জায়গায় আচরণবিধি মেনে যতটুকু প্রচারকাজ করছি, সেখানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, গণভোটের প্রচারণা চালানোয় এনসিপি নেতাদের নির্বাচন কমিশন শোকজ করেছে। অথচ বিএনপি প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ঢাকা-১১ আসনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘এ এলাকায় পানি ও গ্যাসের সংকট আছে। মাদকের কারবার চলে। এলাকার মানুষ, বিশেষত, তরুণ সমাজ এটা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই মাদককে নির্মূল করতে হবে। এই মাদকের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ব্যাকআপ। ফলে এই দুটোকেই যদি দূর করতে পারি, তাহলে মাদক সমস্যা সমাধান সম্ভব। তরুণ সমাজ ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবে।’ তিনি বলেন, ‘যদি আমরা দেখি শেষ পর্যন্ত এই ইলেকশন কমিশন চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েছে, তারা নিরপেক্ষতার একেবারেই ধার ধারছে না, তাহলে এই ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে আমরা সর্বাত্মকভাবে নামব। আমরা আগাম সতর্কবাণী ইলেকশন কমিশনের জন্য দিয়ে রাখছি।’

শাহবাগের রাস্তায় মাদুর পেতে এনসিপির নির্বাচনী থিম সং লঞ্চ : রাস্তায় মাদুর পেতে নির্বাচনী থিম সং লঞ্চ (উদ্বোধন) করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগের (শহীদ হাদি চত্বর) জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘এনসিপিরে বরণ করো শাপলা কলির মালায়’ শীর্ষক থিম সং উদ্বোধন করেন এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

এ সময় নির্বাচনী থিম সং ছাড়াও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারের জন্য আরেকটি প্রচারণামূলক গানও প্রকাশ করে দলটি। অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মুনিরা শারমিন ও জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ এনসিপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা থিম সং লঞ্চ করতে চেয়েছি রাজপথ থেকে, যেখান থেকে আমাদের জন্ম হয়েছে। আর আমরা খুব ফ্যান্সিভাবে ফাইভ স্টার হোটেল ভাড়া করে সেলিব্রিটিদের এনে করতে পারিনি। আমরা মনে করছি, এখানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষজন আছেন, আমাদের হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষজন আছেন এবং আমরা তাদের রিপ্রেজেন্ট করি। আমরা তাদের সঙ্গে নিয়ে থিম সং লঞ্চ করতে চেয়েছি। এমন কোনো জায়গায় লঞ্চ করতে চাইনি, যেখানে তাদের অনুপ্রবেশের অধিকার নেই। আপনারা দেখেছেন, গণভোটের থিম সংটা লঞ্চ হয়েছে, এটার সঙ্গে আপনারা সবাই কমবেশি পরিচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পার্টির এবং নির্বাচনে আমরা কী কী কনসেপ্ট নিয়ে আসছি এবং একই সঙ্গে শাপলা কলিকে পরিচিত করানো এই সবকিছু মিলিয়ে আজকের এই থিম সং। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি ভালো আউটপুট পেতে। আপনাদের সবার ভালো লাগবে এই প্রত্যাশা রাখছি।’