'বাস্তবতা হলো খেলাধুলা থেকে রাজনীতিকে পুরোপুরি আলাদা করা যায় না'

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক তারকা ক্রিকেটার জন্টি রোডস, জেসন গিলেস্পি ও শহিদ আফ্রিদি এই সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি ও আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।

আইসিসি শনিবার জানায়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি আইসিসি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ভারতের ভেন্যুতে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো “বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি” পাওয়া যায়নি। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বৈঠক, ভিডিও কনফারেন্স ও স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি সংস্থাটির।

এ বিষয়ে সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ফিল্ডিং কিংবদন্তি জন্টি রোডস বলেন, খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখার চেষ্টা থাকলেও বাস্তবে তা সব সময় সম্ভব হয় না। তাঁর ভাষায়, “আমরা সব সময় বলি রাজনীতি ও খেলাকে আলাদা রাখতে হবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—খেলাধুলা থেকে রাজনীতিকে পুরোপুরি আলাদা করা যায় না।” 

অন্যদিকে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার জেসন গিলেস্পি আইসিসির সিদ্ধান্তে স্পষ্ট বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পরে মুছে ফেলা পোস্টে) তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বাংলাদেশ কেন ভারতের বাইরে গিয়ে ম্যাচ খেলতে পারল না—এ বিষয়ে আইসিসির কোনো ব্যাখ্যা আছে?” গিলেস্পির যুক্তি, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি তাদের পুরো টুর্নামেন্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলার অনুমতি দিয়েছিল। সেই নজির থাকলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত কেন—তা নিয়েই তাঁর প্রশ্ন।

গিলেস্পির মতোই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। তিনি বলেন, “আইসিসির এই অসঙ্গতিতে আমি ভীষণভাবে হতাশ। ২০২৫ সালে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ মেনে নেওয়া হলো, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই বোঝাপড়া দেখানো হলো না।” আফ্রিদির মতে, আইসিসির কাজ হওয়া উচিত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা, বিভাজন নয়।