ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি হত্যার ৪৪তম দিনেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে খুনিরা। প্রধান শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনের এখনও পাওয়া যায়নি কোনো হদিস। খুনিরা দেশের বাইরে নাকি দেশের ভেতরেই কোনো মহলের আশ্রয়ে আছে, সে সম্পর্কেও প্রশাসন কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারেনি।
এর আগে শ্যুটার ফয়সালের অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভাইরাল ভিডিওকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নকল বলে শনাক্ত করেন অনেকে। গত ১২ জানুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, খুনিরা ভারতের মেঘালয়ে পালিয়েছে এবং তার দুই সহযোগীকে সেখানকার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তবে মেঘালয় পুলিশ বিষয়টি নাকচ করে জানায়, তারা এমন কোনো অপরাধী আটক করেননি। এই অসঙ্গতির পর প্রশাসনের বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
এরপর হাদি হত্যা মামলার তদন্ত নেয় গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি)। গত ২০ জানুয়ারি সিআইডির প্রতিবেদন দাখিলের শেষ দিন থাকলেও তা পিছিয়ে আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ধার্য করা হয়।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। আহত হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরে মামলায় যুক্ত হয় হত্যার (দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা) অভিযোগ।
৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। তবে বাদীর নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি সিআইডির কাছে পাঠায়।
ডিবির চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়, যাদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে এবং বাকি ৬ জন পলাতক রয়েছে। পলাতক আসামিরা হলেন-প্রধান শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ, আলমগীর হোসেন, মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্মাল পিলিপস, মুক্তি আক্তার ও ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।
কারাগারে আটক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু। এছাড়া রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী (উজ্জ্বল), ফয়সালের সহযোগী কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, বাপ্পির বোনজামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ আরেক ফয়সালও কারাগারে রয়েছেন। উল্লেখ্য, ডিবির চার্জশিটে সাক্ষী করা হয়েছিল মোট ৭৭ জনকে।