বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’র (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, কাস্তে মার্কার প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। মানুষের মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা হবে। শোষণ-বৈষম্য লালনকারী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে গণমুখী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানুষের মুক্তি নেই।
আজ রবিবার বিকেলে ঢাকা-৮ আসনে সিপিবির কাস্তে মার্কার প্রার্থী ত্রিদ্বীপ সাহার নির্বাচনী প্রচারে ফকিরাপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমাদের জাতীয় সংসদ কোটিপতিদের ক্লাবে পরিণত হয়, এখানে জনস্বার্থের কথা কমই উচ্চারিত হয়। বড়লোক আর লুটেরাদের স্বার্থের আলোচনা হয়। তাদের স্বার্থে আইন প্রণীত হয়। এদের বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন মত থাকলেও নিজেদের শুল্কমুক্ত গাড়ি, থোক বরাদ্দ ও সংসদ সদস্যদের সুবিধার ভাগাভাগির সময় সবাই এক হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, কমিউনিস্টরা ওইসব সুবিধা বন্ধ করে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি ঘটানো, বিশ্বের বুকে দেশের মর্যাদা রক্ষা ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে ভূমিকা পালন করবে।
তিনি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বত্র সমভাবে উন্নয়ন, সকল কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কাজ করব।
সরকারের সমালোচনা করে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, এই সরকার “কানে দিয়েছে তুলো পিঠে দিয়েছে কুলো।” তারা জনগণের কোনো কথা শুনছে না। এই নির্বাচনের সময়ও চট্টগ্রাম বন্দর লিজ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ভয়ের রাজত্ব, মব সন্ত্রাস দূর করতে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। নির্বাচনে টাকার খেলা, পেশি শক্তির দাপট আর সাম্প্রদায়িক শক্তির ধর্মের ব্যবহার বন্ধে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এই অবস্থা জনমনে নির্বাচনে নানা ধরনের প্রশাসনিক কারসাজির আলোচনা সামনে নিয়ে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর প্রচার নিয়ে সরকার যে পরিস্থিতি করছে, তা জনমনে আরেক উদ্বেগ তৈরি করছে। জুলাই সনদে বর্ণিত ৪৮ বিষয়, ভূমিকা পটভূমি ও বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামায় যা লেখা হয়েছে তা দেশের সাধারণ মানুষ জানে না। এ বিষয় নিয়ে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে তার আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি অপ্রয়োজনীয় গণভোট বন্ধ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যথাযথ ভূমিকা পালনের জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে ব্যর্থ হলে দেশ আরেক ধরনের সংকটে পড়বে। এ দায় নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে বহন করতে হবে। তিনি দেশের সচেতন জনগণ ও গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনও গোষ্ঠী যেন দেশকে সংকটে না ফেলতে পারে, আসুন সেজন্য আমরা যার যার অবস্থান থেকে ওই সব অপশক্তির বিরুদ্ধে কণ্ঠকে সোচ্চার করি।
তিনি বলেন, এই সরকার জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করতে, শিক্ষকদের দাবি মানতে টাকা পায় না অথচ মন্ত্রীদের জন্য অহেতুক বিলাসবহুল বাড়ি করার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি খুব প্রকাশ করে বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এ বছর বিদেশে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। তিনি এই সরকারের সময়ের কার্যক্রমের শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়ে রুটিন কাজের বাইরে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান।
গণসংযোগে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, রাজনৈতিক ডামাডোলে জনস্বার্থের কথা বাদ দিয়ে অনেক রাজনৈতিক দল শুধু ক্ষমতার খেলায় মেতে উঠেছে। আমরা বামপন্থীরা ব্যবস্থা বদলে সংগ্রাম অগ্রসর করতে মাঠে আছি। আসন্ন নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীরা বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশ ও মানুষের স্বার্থে ব্যবস্থা বদলের কাজটি সম্পন্ন করব।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ এখনও পর্যন্ত যথাযথ হয়নি। পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেনি। ভয়ের রাজত্ব অব্যাহত আছে। এ অবস্থার অবসান ছাড়া নির্বাচনে সবার জন্য সময় সুযোগ নিশ্চিত করা যাবে না।
গণসংযোগে সিপিবির প্রার্থী ত্রিদ্বীপ সাহা বলেন, এমপির নামে জমিদারিত্ব করার জন্য আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি না। জনস্বার্থে আইন প্রণয়ন করা সহ মানুষ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় অর্থনীতিকে সচল করা এবং সব মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে যথাসাধ্য ভূমিকা পালন করার জন্য আমরা নির্বাচিত হতে চাই।
গণসংযোগে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রাকসুর সাবেক ভিপি রাগীব আহসান মুন্না, আব্দুল কাদের, আবু তাহের বকুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য হযরত আলী, আক্তার হোসেন, যুবনেতা রফিজুল ইসলামসহ ছাত্র-যুব-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।