ঘুমের মধ্যে পুড়িয়ে হত্যা: একমাত্র উপার্জনক্ষম চঞ্চলকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার

নরসিংদীতে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার যুবক চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিকের (২৩) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোক আর আহাজারি। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে নিহত চঞ্চলের বাড়িতে এখনো দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন ঘটনাটি জানতে এবং শোকসপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে দেখা যায়, বাড়ির উঠোনজুড়ে নীরবতা আর কান্নার ভারী পরিবেশ। চঞ্চলের মা পাথরের মতো নিথর হয়ে বসে আছেন। পাশে প্রতিবন্ধী বড় ভাই, অসুস্থ মেজ ভাই ও স্বজনরা নির্বাক হয়ে সময় কাটাচ্ছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার।

নিহত চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক বরুড়া উপজেলার ১৪ নম্বর লক্ষ্মীপুর গ্রামের খোকন চন্দ্র ভৌমিকের ছেলে। তিন বছর আগে তার বাবা মারা যান। তিন ভাইয়ের মধ্যে চঞ্চল ছিলেন সবার ছোট এবং সংসারের একমাত্র ভরসা। বড় ভাই প্রতিবন্ধী এবং মেজ ভাই দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় পরিবারের ভরণপোষণের পুরো দায়িত্ব ছিল চঞ্চলের কাঁধে।

নিহতের কাকা দূর্যোধন ভৌমিক বলেন, ‘প্রায় সাত বছর আগে আমার ভাতিজা নরসিংদীতে গিয়ে পরিচিত একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ শেখে। এরপর নিয়মিত কাজ করত, বাড়িতে যাতায়াতও ছিল। কখনো তার কোনো সমস্যার কথা শুনিনি। আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা রাতেই সেখানে ছুটে যাই। আগুন নেভার পর তাকে মৃত্যুমুখে পড়ে থাকতে দেখি। পরদিন আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বাড়িতে এনে সৎকার করা হয়। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে নরসিংদী শহরের পুলিশ লাইন্স এলাকার খানাবাড়ি মসজিদ মার্কেটের একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সেদিনও কাজ শেষে গ্যারেজের ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েন চঞ্চল। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা দোকানের শাটারের নিচে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভেতরে থাকা পেট্রল ও মোবিলের কারণে মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; পরিকল্পিতভাবেই চঞ্চলকে হত্যা করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দোকানের শাটারে আগুন দিতে দেখা গেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে চঞ্চল হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।