তুরস্কের সুপার লিগে এক অবিশ্বাস্য ঘটনার জেরে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছেন রেফারি। মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে দুইটি হলুদ ও একটি লাল কার্ড দেখিয়ে কাসিমপাশার মিডফিল্ডার কেরেম দেমিরবাইকে বহিষ্কার করার ঘটনায় রেফারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি এই ঘটনার পেছনে জুয়াড়িদের হাত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করছেন অনেকে।
ঘটনাটি ঘটে ট্রাবজোনস্পরের বিপক্ষে কাসিমপাশার ২–১ গোলে হারের ম্যাচে। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে পিছিয়ে থাকা কাসিমপাশা একটি ফ্রি–কিক পায়। দ্রুত খেলা শুরু করতে রেফারি আলি ইয়িলমাজকে তাড়া দেন জার্মান মিডফিল্ডার দেমিরবাই। রেফারি তখন প্রতিপক্ষের মানবপ্রাচীর ঠিক করছিলেন। এ সময় তাড়াহুড়ো ও প্রতিবাদ করায় প্রথমে দেমিরবাইকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
এই ঘটনায় দেমিরবাই হাততালি দিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতেই পাঁচ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় হলুদ দেখান তিনি। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ড দেখে দেমিরবাইকে মাঠ ছাড়তে হয়। এই অস্বাভাবিক দ্রুততায় দুই হলুদ ও লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং তুরস্কে রেফারিং নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়।
কাসিমপাশার কোচ ও সাবেক তুর্কি তারকা এমরে বেলোজোগ্লু ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তুরস্কের ফুটবলের উন্নতির স্বার্থে রেফারিদের পারফরম্যান্স জরুরি ভিত্তিতে উন্নত করা দরকার। শুধু লাল কার্ড দেখানো নয়, পুরো ম্যাচ পরিচালনাই ছিল দুর্বল। এমনভাবে খেলা পরিচালনা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ইংলিশ দৈনিক ‘দ্য সান’–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনা তুরস্কের ফুটবলে চলমান রেফারি–বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে সমর্থকেরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কেউ কেউ খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ বাড়ানোর পেছনে রেফারিকে দায়ী করেছেন। আবার অনেকে দাবি করেছেন, দেমিরবাই হয়তো অশোভন কিছু বলেছিলেন, যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ নেই।
সাম্প্রতিক এক ঘটনায় এই বিতর্ক আরও তুঙ্গে উঠেছে। গত অক্টোবরে তুরস্কে পাঁচ বছরব্যাপী এক তদন্তে উঠে আসে যে, ১৫২ জন রেফারি সক্রিয়ভাবে জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এতে দেশটির ৫৭১ জন নিবন্ধিত ম্যাচ অফিসিয়ালের মধ্যে ৩৭১ জন কোনো না কোনোভাবে তদন্তের আওতায় পড়েন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দেমিরবাইয়ের বহিষ্কার নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।