‘দীর্ঘতম’ নো-বল! আসাদের ডেলিভারিতে আমিরের কুখ্যাত স্পট-ফিক্সিংয়ের ছায়া

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:২৬ পিএম

পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক অবিশ্বাস্য নো-বল ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। করাচি ব্লুজের ডানহাতি পেসার আসাদ আখতারের একটি ডেলিভারি ক্রিকেটবিশ্বে নতুন করে স্পট-ফিক্সিংয়ের আতঙ্ক উসকে দিয়েছে। ক্রিজ থেকে অনেকটা সামনে পা বাড়িয়ে করা এই নো-বলটি ২০১০ সালে লর্ডসে মোহাম্মদ আমিরের সেই কুখ্যাত নো-বলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যা পরে পরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল।

কী ঘটেছিল মিরপুরে?

গত ১৪ মার্চ পেশোয়ারের ইমরান খান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে করাচি ব্লুজ ও লাহোর ব্লুজের মধ্যে ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপের একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এক ওভারে আসাদ আখতার দুটি ওয়াইড ও দুটি নো-বলসহ মোট ২১ রান খরচ করেন। তবে রান দেওয়ার চেয়েও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় তার একটি নো-বল। পপিং ক্রিজ থেকে তার সামনের পা অবিশ্বাস্য দূরত্বে ছিল, যা সাধারণ ভুল হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা একে ‘ক্রিকেট ইতিহাসের দীর্ঘতম নো-বল’ বলে অভিহিত করছেন।

স্মৃতিতে ২০১০-এর সেই চড়!

আসাদ আখতারের এই কাণ্ডটি যখন ভাইরাল, তখনই নতুন করে সামনে এসেছে সাবেক অলরাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাকের একটি বিস্ফোরক মন্তব্য। ২০১০ সালের সেই স্পট-ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কথা মনে করে রাজ্জাক জানান, কীভাবে লন্ডনের এক মোবাইল মেরামতকারীর মাধ্যমে মাজহার মজিদ ও তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের কথোপকথন ফাঁস হয়েছিল।

রাজ্জাক আরও জানান, তখন তরুণ মোহাম্মদ আমির প্রথমে দোষ স্বীকার করতে না চাইলে তৎকালীন অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি তাকে নিজের রুমে ডেকে নিয়ে সজোরে থাপ্পড় মেরেছিলেন। সেই থাপ্পড়ের পরই আমির কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

পিসিবি-র নিশ্চুপ ভূমিকা

আসাদ আখতারের এই অস্বাভাবিক ডেলিভারি নিয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা দেয়নি। তবে সমর্থক ও বিশ্লেষকদের দাবি, দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই ধরনের সন্দেহজনক পারফরম্যান্সের গভীর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত