বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গণ অধিকার পরিষদ, গণ সংহতি আন্দোলন ও গণফোরামের সিনিয়র নেতা ও প্রতিনিধিরা ও অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একসঙ্গে ময়মনসিংহে পথে নেমে ভোটারদের উদ্দেশে একটি অভিন্ন বার্তা দিচ্ছেন—নির্বাচনী প্রতিযোগিতা হবে শান্তিপূর্ণ, সংযত ও দায়িত্বশীল। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বহুদলীয় পথসভাকে দেখা হচ্ছে ভোটারদের আশ্বস্ত করার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে।
চার দিনব্যাপী এই বহুদলীয় শান্তি ও সম্প্রীতি প্রচারণা আয়োজন করেছে মাল্টি-পার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এমএএফ)–ময়মনসিংহ, হারমনি টিম–ময়মনসিংহ এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল। গত অক্টোবর থেকে এমএএফ ময়মনসিংহ ধারাবাহিকভাবে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত হয়ে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা সিনিয়র নেতাদের সামনে তুলে ধরেছে এবং ধারাবাহিক যৌথ সংলাপে নেতাদের একত্রিত করেছে। সেই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই সম্প্রসারণ হিসেবে এই বহুদলীয় পথসভা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ময়মনসিংহে নির্বাচনী রাজনীতিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে জনমনে যে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার অনুভূতি তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের দলগুলোর সিনিয়র নেতা ও প্রার্থীদের এক মঞ্চে এনে সরাসরি ভোটারদের সামনে দাঁড় করানো একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রয়াস। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এমএএফ দেখিয়েছে—ধারাবাহিক সংলাপ, পারস্পরিক আস্থা ও নাগরিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এমন পরিবেশেও বহুদলীয় সমন্বয় সম্ভব।
ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনের ভোটারদের অভিন্ন প্রত্যাশা—রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে তা যেন নাগরিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত না করে। এই পথসভাগুলোর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো তৃণমূল ভোটারদের কাছে সেই আশ্বাসই পৌঁছে দিতে চায় যে, নির্বাচনের পথ হবে শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল।
এই বহুদলীয় উদ্যোগের সূচনা হয় ২২ জানুয়ারি ময়মনসিংহ–৪ (সদর) আসনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী পথসভার মাধ্যমে। সেখানে নাগরিকদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ তুলে ধরা হয় এবং অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী আচরণের বিষয়ে প্রকাশ্য অঙ্গীকার করেন। ধারাবাহিকভাবে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ–১, ২ ও ৩ আসনে এই বহুদলীয় শান্তি প্রচারণার দ্বিতীয় দিন আয়োজিত হলো। একই ভাবে ২৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহ–৮, ৯, ১০ ও ১১ আসনে এবং ২৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ–৫, ৬, ৭ ও ৪ আসনে পথসভার মধ্য দিয়ে এই বহুদলীয় শান্তি প্রচারণা এগিয়ে যাবে।
সোমবার এই পথসভাগুলোতে অংশ নিচ্ছেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স -বি এনপি- আসন -১- পার্থী, আব্দুর রাজ্জাক- বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-পার্থী- আসন -১, মুজিবুর রহমাম- খেলাফত মজলিস পার্থী- আসন -১, সালমান ওমর রুবেল- সতন্ত্র- পার্থী- আসন ১, আজিজুল- বাংলাদেশ খেলাফাতে মজলিস- আসন ২- পার্থী, মো: শাহ সুলতান মৃধা- আসন ১- গন অধিকার পরিষদ- পার্থী, মোহাম্মদ এমরান হাসান - প্রতিনিধি বিএনপি- আসন ২, শাহ নাভিলা কাশফি- সতন্ত্র প্রতিনিধি - আসন ২ এবং মুহাম্মদ্দুল্লাহ - ১০ দলীয় ভোট পার্থী- আসন ২।
পথসভাগুলোতে অংশ নেওয়া প্রার্থী ও দলীয় প্রতিনিধিরা দলমত নির্বিশেষে শান্তির পক্ষে কাজ করা, নিজেদের নির্বাচনী কার্যক্রম ও প্রচারণা শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সহিংসতা ও উসকানি পরিহারের বিষয়ে যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তারা ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শান্তি ও সম্প্রীতির ময়মনসিংহ গড়ে তোলা এবং জনকল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তাদের অভিন্ন ঘোষণা— “সহিংসতা নয়, শান্তিই আমাদের অঙ্গীকার।”
আয়োজকদের মতে, একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতারা একসঙ্গে পথে নেমে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রতি তাদের যৌথ অঙ্গীকার তুলে ধরতে পারাটাই এই উদ্যোগের মূল শক্তি—যা ভোটারদের আস্থা জোরদার করে এবং নির্বাচনমুখী পরিবেশ তৈরি করে। এই বহুদলীয় পথসভার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ অঙ্গীকার স্পষ্ট—সহিংস রাজনীতি নয়, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং জনগণের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ।