বন্ড রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য আশীর্বাদ

বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য একটি বিশাল আশীর্বাদ বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

তিনি বলেন, পোশাক খাত আজ যে অবস্থানে এসেছে, তার পেছনে এই বন্ড সুবিধার বড় অবদান রয়েছে। তবে এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে। এই বন্ড সুবিধা কি শুধু নির্দিষ্ট কিছু সেক্টরেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এটাকে আরও বিস্তৃত করা হবে।

গতকাল সোমবার এনবিআরের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক সেমিনারে এনবিআর চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘সতর্ক থাকতে হবে, যেন বন্ডের সুবিধার অপব্যবহার না হয়। অনেকে বন্ডেড পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করে দেন, যা দেশীয় শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি। এতে যারা নিয়মিত ট্যাক্স দিয়ে কাঁচামাল আনছেন, তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন। আমরা এখন বন্ড অটোমেশন নিয়ে কাজ করছি। পুরো প্রক্রিয়াটি যখন স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাবে, তখন এই অপব্যবহার যেমন কমবে, তেমনি সৎ ব্যবসায়ীদের হয়রানিও বন্ধ হবে। সিস্টেমই বলে দেবে কার কতটুকু কাঁচামাল ব্যবহারের অধিকার আছে এবং কতটুকু ব্যালেন্স আছে। এতে স্বচ্ছতা আসবে এবং ব্যবসার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।’

পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী মহলের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে, আমরা যখনই কোনো নিয়ম সহজ করতে যাই, তখনই দেখা যায় কিছু অসাধু লোক সেই সুযোগটা নেয়। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি করে। আপনি যখন একটা ঘোষণা দিচ্ছেন, সেটা যদি সঠিক না হয়, তখন কাস্টমস বাধ্য হয় শতভাগ পরীক্ষা করতে। এতে যারা সৎ ব্যবসায়ী, তাদেরও সময় নষ্ট হয়। মিথ্যা ঘোষণার কারণে শুধু সরকারের রাজস্বই ক্ষতি হয় না, বরং যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন, তারাও অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার রয়েছে। সবাই ট্যারিফ ব্যারিয়ার নিয়ে কথা বলে, তবে নন-ট্যারিফ নিয়ে কথা বলা হয় না। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দাবি থাকে ব্যবসার প্রক্রিয়া সহজ করা। এয়ারপোর্টের সিস্টেম নিয়ে বিদেশি মানুষ সমালোচনা করে। যাত্রীদের লাগেজ এত বেশি মাত্রায় স্ক্যান করা পৃথিবীর আর কোনো দেশে হয় না। এ বিষয়টি নজর দেওয়া উচিত।