ওয়ানডেতে টি-টোয়েন্টির ব্যাটিংয়ে সিরিজ জেতালেন হ্যারি ব্রুক

‎হ্যারি ব্রুকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তৃতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে ইংল্যান্ড। ৬৫ বলে অপরাজিত ১৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ব্রুক। তাঁর সঙ্গে দারুণ সঙ্গ দেন জো রুট, যিনি করেন ১১১ রান। এই দুই ব্যাটসম্যানের কল্যাণে ইংল্যান্ড তোলে বিশাল ৩৫৭ রান।

‎ঐতিহাসিকভাবে রান তাড়া করা যেখানে কঠিন, সেই উইকেটে শ্রীলঙ্কা সাহসী লড়াইয়ের চেষ্টা করে। চতুর্থ ওয়ানডেতেই নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করা পাভান রথনায়াকে (১২১) নেতৃত্ব দেন স্বাগতিকদের। তবে প্রয়োজনীয় রান রেটের কাছাকাছি থেকেও ইংল্যান্ডের বোলারদের নিয়মিত আঘাতে শেষ পর্যন্ত ৪৭তম ওভারে ৩০৪ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা।

‎রথনায়াকের ১১৫ বলে ১২১ রানের ইনিংস ছাড়া উল্লেখযোগ্য স্কোর আসে কেবল পাথুম নিশাঙ্কার ব্যাট থেকে, যিনি ২৫ বলে করেন ৫০ রান।

‎এই জয়ে ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ জিতল ২-১ ব্যবধানে। এটি তাদের মার্চ ২০২৩-এ বাংলাদেশকে হারানোর পর প্রথম বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়। অন্যদিকে, ২০২১ সালে ভারতের কাছে হারার পর এই প্রথম ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ হারল শ্রীলঙ্কা।

‎ইংল্যান্ডের ব্যাটিং আধিপত্য

‎ইনিংসের শুরুটা খুব ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। বেন ডাকেট ও রেহান আহমেদ ধীরগতিতে রান তুলছিলেন। ১১তম ওভারে ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল মাত্র ৪০/২। তবে এরপর জ্যাকব বেটেল ও জো রুট উইকেটে থিতু হন। দুজনের ১২৬ রানের জুটিতে ইনিংস গতি পায়। বেটেল করেন ৬৫ রান।

‎এরপর রুটের সঙ্গে ব্রুকের ১৯১ রানের জুটি পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মাত্র ১১৩ বলেই এই জুটি গড়ে ওঠে। শেষ ওভারগুলিতে পুরোপুরি দাপট দেখান ব্রুক। শেষ ৪০ বলে তিনি একাই তোলেন ১০১ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৯টি ছক্কা। শেষ পাঁচ ওভারে শ্রীলঙ্কা হজম করে ৮৮ রান।

‎ওয়ানডেতে ইনিংসের শেষ ১০ ওভারের মধ্যেই কোনো ব্যাটসম্যানের এটি নবম সেঞ্চুরি। এই তালিকায় এবি ডি ভিলিয়ার্স, রোহিত শর্মা ও জস বাটলার—তিনজনই আছেন দুইবার করে।

‎শেষ ১০ ওভারে একাই সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ডটি এবি ডি ভিলিয়ার্সের। ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনি করেন ১২১ রান। একই বছর, একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই আরেক ইনিংসে তুলেছিলেন ১০৯ রান।

‎রোহিত শর্মা ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ১০ ওভারে করেন ১১০ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটিই ছিল শেষ ১০ ওভারে কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম শতরানের ঘটনা। পরে ২০১৭ সালেও, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই, তিনি আবারও ইনিংসের শেষ ১০ ওভারের মধ্যেই সেঞ্চুরি করেন।

‎রুট নিজের ২০তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১০০ বলে। তাঁর ১১১ রানের মধ্যে ৬১ রানই আসে এক, দুই ও তিনে—ফিল্ড ব্যবহারে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।