এবার দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ট্রাম্পের বাড়তি শুল্ক

চুক্তি বাস্তবায়ন না করায় মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে দেশটি থেকে আমেরিকায় রপ্তানি পণ্যের শুল্ক ২৫ শতাংশ হয়েছে। স্থানীয় সময় গত ২৬ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন।

ট্রাম্পের ঘোষণার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করেনি দক্ষিণ কোরিয়ার আইনসভা। সেজন্য ট্রাম্প এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘চুক্তি কার্যকর করা তাদের অধিকার। কিন্তু চুক্তি না মানা পর্যন্ত আমরা শুল্ক বাড়াচ্ছি।’ এই বাড়তি শুল্ক গাড়ি, কাঠ, ওষুধ এবং অন্যান্য পারস্পরিক শুল্কযোগ্য পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে ট্রাম্প আরও কয়েকটি কঠোর শুল্কের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, তবে দেশটির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের মার্কিন পরিকল্পনার বিরোধিতা করা আটটি দেশের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। এসব দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্যও রয়েছে। পরে তিনি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে আসেন এবং দ্বীপটি নিয়ে ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির’ অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। তবে এ ঘটনায় ডেনমার্ক ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়।

সবশেষ দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিস পায়নি। ঘটনা সত্য হলে বিষয়টি নিয়ে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসতে চায়। প্রয়োজনে শিল্পমন্ত্রী কিম জং-কোয়ান যত দ্রুত সম্ভব ওয়াশিংটনে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং এ বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা করবেন।

জানা গেছে, গত অক্টোবরে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৫৬ বিলিয়ন পাউন্ড) বিনিয়োগের অঙ্গীকার করে। এর একটি অংশ জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ করার কথা ছিল। পরের মাসে দুই দেশ একমত হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। চুক্তিটি ২৬ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদে (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) জমা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনায় রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ফেব্রুয়ারিতে এটি অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা চলছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হবে নির্দিষ্ট কোনো দেশের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের আছে কি না। যদি আদালত সরকারের বিপক্ষে রায় দেয়, তাহলে ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের শুল্ক পরিবর্তন করতে করতে পারবেন না।