২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের দূয়ারে গিয়েও ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের ‘চোকার্স’ অপবাদ আরও পাকাপোক্ত হয়েছিল। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি কানাডার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তারা আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। গত এক বছরের মধ্যে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয় এবং ভারতকে তাদের মাটিতে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করার মতো সাফল্য পেয়েছে। তাহলে সাদা বলের বিশ্বকাপটা কেমন হবে প্রোটিয়াদের জন্য?
গ্রুপ ‘ডি’-তে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে রয়েছে আফগানিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। এই গ্রুপে বাকি দুই দল কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপে দলটির গভীরতা ও ব্যাটিং শক্তি তাদের অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। তাছাড়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উপমহাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটাররা বেশি অভ্যস্ত বলে তার মত।
স্মিথ বলেন, ‘এখনকার অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। আইপিএল এবং দ্বিপাক্ষিক সফরের কারণে খেলোয়াড়রা এখন উপমহাদেশে প্রচুর সময় কাটাচ্ছে। এটা আর তাদের কাছে অপরিচিত কোনো কন্ডিশন নয়। অনেকেই জীবনের কয়েক বছর উপমহাদেশেই খেলে ফেলেছে। তাই বিশ্বকাপে আমি তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করি। দলে প্রচুর পাওয়ারহিটার আছে। এমন অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা একাই ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে।’
তবে একই সঙ্গে তিনি শুধু পাওয়ার হিটারদের ওপর ভরসা না রেখে দলের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন, ‘কোন মাঠে কোন কম্বিনেশন খেলানো হবে, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ। কিছু মাঠে রান ডিফেন্ড করা কঠিন। কিছু উইকেট আবার একেবারে ফ্ল্যাট। সেখানে বোলারদের পরীক্ষা দিতে হয়। তাই বোলিং কম্বিনেশনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত যাওয়ার মতো শক্তিশালী স্কোয়াড এটি।’
এদিকে ট্রিস্টান স্টাবস ফর্মে ফেরায় স্বস্তি ফিরেছে দলে। ফর্ম খারাপ থাকায় স্টাবসকে প্রথম দফায় বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হয়নি। পরে ডোনোভান ফেরেইরা ও টনি ডি জর্জির চোটে তার দলে ফেরার সুযোগ হয়। এসএটোয়েন্টির ফাইনালে তিনি খেলেন অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংস। স্টাবসের ফর্মে ফেরা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন স্মিথ, ‘শেষ ছয় মাসে ওকে অনেক হতাশা কাটিয়ে উঠতে হয়েছে। বড় ম্যাচে, বিশেষ করে ফাইনালের মতো মঞ্চে, চাপের মুখে পারফর্ম করতে দেখলে ভালো লাগে। আশা করি, এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই সে বিশ্বকাপে নামবে।’