ভারতের সাবেক ক্রিকেটার জ্যাকব মার্টিনকে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোররাতে গুজরাটের ভাদোদরায় এই ঘটনা ঘটে। একসময় শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলীর সতীর্থ ছিলেন মার্টিন।
পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভাদোদরার আকোটা এলাকার পুনীত নগর সোসাইটির কাছে নিজেই এসইউভি গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মার্টিন। একপর্যায়ে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনটি পার্ক করা গাড়িতে ধাক্কা মারে। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলো হলো কিয়া সেলটোস, হুন্দাই ভেন্যু ও মারুতি সেলিরিও। দুর্ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।
ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকরা থানায় অভিযোগ করলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে মার্টিনের গাড়িটিও জব্দ করেছে পুলিশ। এর আগে ২০১১ সালে দিল্লিতে ২০০৩ সালের একটি মানব পাচার মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জ্যাকব। আবার ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ সময় লাইফ সাপোর্টেও ছিলেন।
৫২ বছর বয়সী জ্যাকব মার্টিনের জন্ম ১৯৭২ সালের মে মাসে, গুজরাটের বরোদায়। ডানহাতি এই ব্যাটার ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ভারতের হয়ে ১০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি মোট ১৫৮ রান করেন, গড় ছিল ২২.৫৭। ২০০০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে পার্থে ৩৯ রানের ইনিংস ছিল তার সর্বোচ্চ স্কোর।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সংক্ষিপ্ত হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে জ্যাকব মার্টিন ছিলেন অত্যন্ত সফল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩৮ ম্যাচে ৪৬.৬৫ গড়ে ৯ হাজার ১৯২ রান করেছেন। তার নামের পাশে রয়েছে ২৩টি সেঞ্চুরি এবং ৪৭টি হাফসেঞ্চুরি। একাধিকবার বরোদা দলের অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি এবং ২০০০–০১ মৌসুমে দলকে রঞ্জি ট্রফি জিতিয়েছিলেন। ১৯৯৮–৯৯ মৌসুমে রঞ্জি ট্রফিতে এক মৌসুমে এক হাজারের বেশি রান করা ষষ্ঠ ক্রিকেটার হয়েছিলেন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর ২০১৬–১৭ মৌসুমে বরোদা দলের প্রধান কোচের দায়িত্বও পালন করেন জ্যাকব মার্টিন। বর্তমানে তিনি গুজরাটে ‘ইউক্লিন’ নামে একটি লন্ড্রি ও ড্রাই-ক্লিনিং ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ
মাস্তান্তুয়োনো আমার চেয়েও প্রতিভাবান ফুটবলার: ডি মারিয়া