টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে গেলো জ্যোতিরা

আইসিসি নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বুধবার নেপালে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এবং একই দিনে নেদারল্যান্ডস যুক্তরাষ্ট্রকে হারানোয় ইংল্যান্ডে জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত হয় জ্যোতিদের। 

নেপালের মুলপানিতে সুপার সিক্সে নিজেদের প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের অপরাজিত ধারাবাহিকতা ধরে রাখে বাংলাদেশ। সুপার সিক্সের টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থান এখন সবার ওপরে। ৩ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিগারদের। নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পাওয়া জয়ের পয়েন্ট এখানে যোগ হয়েছে। সুপার সিক্সে সুযোগ পাওয়া যে দলগুলো গ্রুপেও প্রতিপক্ষ ছিল, তারা এই রাউন্ডে একে অন্যের বিপক্ষে খেলবে না। যে কারণে সুপার সিক্সে একটা দল আসলে ম্যাচ খেলবে ৩টি, হিসাব হবে মোট ৫ ম্যাচের পয়েন্ট। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রানরেট (১.১৫০), তাদের চেয়ে ভালো রানরেট শুধু ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পাওয়া স্কটল্যান্ডের (১.৩৫৬)। সুপার সিক্সের সেরা চারটি দল সুযোগ পাবে এ বছর জুন–জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে হতে যাওয়া টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে, যেখানে আগে থেকেই আছে অস্ট্রেলিয়া, স্বাগতিক ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।

সুপার সিক্সে বাংলাদেশের বাকি দুটি ম্যাচ রয়েছে। শুক্রবার কীর্তিপুরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে দলটি। এরপর রবিবার মুলপানিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাছাইপর্ব অভিযান শেষ করবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫ রান। নারী টি-টুয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশের মেয়েদের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ওপেনার দিলারা আক্তার শূন্য রানে ফিরেন, শারমিন আক্তার করেন ১১ রান। এরপর জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারির ১১০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় দল।

দুজনই করেন ফিফটি। জুয়াইরিয়া ৪৫ বলে ৪ ছক্কায় করেছেন ৫৬ রান। নারী টি–টুয়েন্টিতে এক ইনিংসে এটি কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার যৌথ রেকর্ড। সোবহানা ছিলেন আরও মারমুখী, ৪২ বলে ৫৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। শেষ দিকে রিতু মনির ৬ বলে ১৫ রানের ‘ক্যামিও’তে স্কোরবোর্ডটা সমৃদ্ধ হয়।
লক্ষ্য তাড়ায় থাইল্যান্ডের শুরুতেই উইকেট পড়ে যায়। তবে নাথাকান চান্থাম (৪৪), নারুয়েমল চাইওয়াই (৩০) ও নান্নাপাত কনচারোয়েনকিয়াত (২৯) কিছুটা লড়াই করেন। তাদের ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মারুফা আক্তার, নেন ৩ উইকেট। রিতু মনি ও স্বর্ণা আক্তার নেন দুটি করে উইকেট, আর একটি উইকেট শিকার করেন ফাহিমা খাতুন।