পাকিস্তান বয়কট করলে যে দেশটি বিশ্বকাপ খেলতে চায়

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে জল্পনা যখন চরমে, তখন সেই বিতর্কে রসিকতার রং লাগাল আইসল্যান্ড ক্রিকেট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে পাকিস্তানকে ট্রল করে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে—পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে বদলি হিসেবে নামতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

আইসল্যান্ড ক্রিকেটের ওই পোস্টে পাকিস্তানের সিদ্ধান্তহীনতাকেই মূলত বিদ্রূপ করা হয়েছে। পোস্টে লেখা হয়,
“আমরা সত্যিই চাই পাকিস্তান দ্রুত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিক। ২ ফেব্রুয়ারি যদি তারা সরে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে রওনা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু ৭ ফেব্রুয়ারির আগে কলম্বো পৌঁছানোর ফ্লাইট শিডিউল বড় ঝামেলা! তাছাড়া আমাদের ওপেনার নাকি অনিদ্রায় ভোগে!”

এই রসিক পোস্ট দ্রুতই ভাইরাল হয় এবং বিশ্বকাপ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে। এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাপ্রবাহ। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানালে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয় আইসিসি, তাদের জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় স্কটল্যান্ডকে। এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।

নাকভির দাবি, পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশেরও পাকিস্তানের মতো ‘হাইব্রিড মডেল’ সুবিধা পাওয়া উচিত ছিল। তবে আইসিসি জানায়, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভারতে বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকি পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর নাকভি আইসিসির ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জানান, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে আলোচনার পর সব বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে এবং শুক্রবার অথবা আগামী সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

নাকভির এমন বক্তব্য থেকেই পাকিস্তানের সম্ভাব্য বয়কট নিয়ে গুঞ্জন ছড়ায়। যদিও এর একদিন পরই পিসিবি ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। হাইব্রিড মডেলের আওতায় ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে—এমনটাই এখন পর্যন্ত সূচিতে রয়েছে।

উল্লেখ্য ক্রিকেট আইসল্যান্ড এখনো আইসিসির সদস্য হতে পারেনি।