ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘নতুন চোখে বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ৩৬ দফা ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ ঘোষণা করেন দলটি। এতে রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারে জুলাই সনদের যে দফাগুলো আইন ও আদেশের ওপর নির্ভরশীল, তা বাস্তবায়নের সময়সীমা ও দায়বদ্ধ কাঠামো তৈরিতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে এনসিপি। এ ছাড়া জুলাইয়ে সংঘটিত ‘গণহত্যা’, ‘শাপলা গণহত্যা’, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে ইশতেহারে। একটি ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এনসিপির নেতারা।
১২টি অধ্যায় এবং ৮৬ পৃষ্ঠার এই ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার, পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পূর্ণবেতনে ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ও এক মাস পিতৃত্বকালীন ছুটি, ঘণ্টায় সর্বনিম্ন ১০০ টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি, সরাসরি ভোটে ১০০টি সংরক্ষিত নারী আসন, প্রবাসী কল্যাণ, পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ভোটাধিকারের বয়স ১৬ বছর করা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) ও সরকারি কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে একটি পোর্টাল করার মতো প্রতিশ্রুতি এসেছে দলটির ইশতেহারে।
আগামী পাঁচ বছরে দেশে এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, ব্যবসার রাজনৈতিক ব্যয় শূন্যে নামাতে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছে এনসিপি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে দলের মুখপাত্র এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বক্তব্য দেন।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের বেশি সময়ের শাসনের অবসান হয়। এরপর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। রাজনীতিতে নয়া বন্দোবস্তের লক্ষ্য নিয়ে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা জামায়াতের ইসলামীর সঙ্গে ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য নামে মোর্চা গড়েছে। গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বের সামনের সারিতে ছিলেন এনসিপির নেতারা।
গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর এনসিপির নির্বাচনী প্রচারের ‘থিম সং’ বাজানো হয়। ইশতেহারের উপজীব্য বিষয়গুলো উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল ফয়সাল। দলের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রধান এহতেশাম হক অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন। বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য দেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক গাউসুল আজম, ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির সম্পাদক ইশতিয়াক আকিব।
অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির ইশতেহারে ১২টি অধ্যায়ে ভাগ করে বিভিন্ন খাতের কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ দলিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, অভ্যুত্থানে সময় সংঘটিত হত্যা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা, শাপলা চত্বর ও পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রতিশ্রুতি, নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন প্রাধান্য পেয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, প্রসবকালীন জটিলতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে অতিরিক্ত ছুটির ব্যবস্থা থাকবে। সরকারি কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য প্রতি মাসে এক দিন অর্ধবেতনে ঐচ্ছিক ‘পিরিয়ড লিভ’ চালু করা হবে। পরে দেশব্যাপী সব কর্মক্ষেত্রে পিরিয়ড লিভের বিধান বাধ্যতামূলক করা হবে। সে ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের পিরিয়ড লিভের দিনের অর্ধবেতনে সরকারি ভর্তুকির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ছাড়া সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ডে-কেয়ার সুবিধা বাধ্যতামূলক করা হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডে-কেয়ার সুবিধায় প্রণোদনা দেওয়া হবে।
জবাবদিহি ও বিচার ব্যবস্থা : ইশতেহারে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এনসিপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ‘জুলাই সনদের’ যেসব বিধান আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য, তা তদারকির জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে। জুলাই গণহত্যা, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, বিডিআর বিদ্রোহ, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
সংখ্যালঘু ও মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অধীনে একটি বিশেষ তদন্ত সেল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বৈষম্য, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং জাতিগত নিপীড়নের স্বাধীন তদন্ত করার ক্ষমতা রাখবে।
সুশাসন ও স্বচ্ছতা : এনসিপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বার্ষিক আয় ও সম্পদের বিবরণ ‘হিসাব দাও’ নামক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। সিভিল সার্ভিস সংস্কারের ক্ষেত্রে ল্যাটারাল এন্ট্রি বৃদ্ধি, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পদোন্নতি, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন স্কেল এবং জাতীয় বেতন কাঠামোর আওতায় ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান : অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এনসিপি প্রতি ঘণ্টায় ১০০ টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের নিরাপত্তা বীমা ও পেনশন স্কিম চালু, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা কমানো এবং কর ফাঁকি রোধ করে কর-জিডিপি অনুপাত ১২ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। দলটি একটি ক্যাশলেস বা নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ার অঙ্গীকার করেছে।
আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছে এনসিপি। এসএমই, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নগদ প্রবাহভিত্তিক ঋণ এবং ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) টাকার একটি উদ্যোক্তা তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বার্ষিক ১৫ লাখ দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠানোর জন্য সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য : শিক্ষা খাতে একটি শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন, শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রবর্তন এবং পাঁচ বছরের মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ৭৫ শতাংশ জাতীয়করণের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে ছয় মাসের ইন্টার্নশিপ বা থিসিস গবেষণা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি মেধা পাচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ‘স্পেশালাইজড হেলথকেয়ার জোন’ স্থাপন, জিপিএস-ট্র্যাকড জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু, জেলা হাসপাতালগুলোতে আধুনিক আইসিইউ ও সিসিইউ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং এনআইডিভিত্তিক ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা চালু করা হবে।
নারী কল্যাণ ও ক্ষমতায়ন : নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নিম্নকক্ষে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১০০টি সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা, সরকারি অফিসে ঐচ্ছিক পিরিয়ড লিভ বা ঋতুকালীন ছুটি প্রদান, কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সুবিধা এবং নারীদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর বিকেন্দ্রীকৃত বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিবেশ ও অবকাঠামো : দূষণকারী ইটভাটা বন্ধ করা, শিল্প-কারখানায় ইটিপি বাধ্যতামূলক করা এবং পাঁচ বছরের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি যানবাহনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক যানবাহন সংগ্রহে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা : পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এনসিপি জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে ঝুলে থাকা সীমান্ত হত্যা এবং পানিবণ্টন সমস্যার মতো অমীমাংসিত বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইনি পথ অনুসরণ করা হবে। রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান এবং আসিয়ান সদস্যপদ লাভের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য প্রচলিত সশস্ত্র বাহিনীর দ্বিগুণ আকারের একটি রিজার্ভ ফোর্স গঠন, পাঁচ বছরের মধ্যে একটি ইউএভি বা ড্রোন ব্রিগেড স্থাপন এবং মধ্যমপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য মিসাইল সিস্টেম সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণা শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এ ইশতেহার মূলত তারুণ্যনির্ভর, জবাবদিহিমূলক এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জোট গঠন করলেও নতুন বন্দোবস্তের লড়াই চলমান থাকবে। ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন করা। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের দলের নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আমাদের যেই চিন্তা বা আদর্শের জায়গাটা, সেটাও গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা অনেক সুযোগ মিস করেছি, কিন্তু এ সময় আমাদের অনেক সম্ভাবনা এবং আমাদের অনেক কিছু অর্জন হয়েছে। ফলে সংস্কারের অনেক প্রতিশ্রুতি আমরা পেয়েছি, যেটা নির্বাচনে গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এর মাধ্যমে আমরা নতুন বন্দোবস্তে সেই লড়াইয়ের দিকে যাব।’
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘এই ইশতেহার জনগণের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের ফল।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই পদযাত্রা থেকে শুরু করে আমরা দেশের পথে-প্রান্তরে গিয়েছি, মানুষের কথা শুনেছি। মানুষ আমাদের তাদের বক্তব্যগুলো দিয়েছেন, তাদের দাবিগুলো জানিয়েছেন।’
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সমাজের বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে বসেছি, তাদের কথা শুনেছি, বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীর সঙ্গে বসেছি, শ্রমিকদের নেতৃত্বের সঙ্গে বসেছি, সবার কথার ভিত্তিতে এই ইশতেহার তৈরি হয়েছে।’