টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ সরে দাঁড়ানোয় বিপাকে পড়তে যাচ্ছে ভারত। এতে খেলাধুলাকে রাজনৈতিক প্রভাবের হাত থেকে মুক্ত রাখার নীতি লঙ্ঘন হতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। এতে ভারতের অলিম্পিক আয়োজনের ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার ইস্যুতে এই ঝামেলার শুরু। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দাবি জানায়, নিরাপত্তার কারণে তারা ভারতে খেলবে না। ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করা হোক। সেই দাবি আইসিসি মেনে না নেওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। রাজনৈতিক কারণে দুই দেশের সম্পর্ক গত এক মাসে আরও খারাপ হয়েছে। পাকিস্তানও বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে বিশ্বকাপ বয়কটের কথা বিবেচনা করছে।
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আইসিসির সিদ্ধান্ত ছিল বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে হবে, যদিও বলা হয় বিসিসিআই বিষয়টি নিয়ে আইসিসিতে বড় ধরনের লবিং করেছিল। আইসিসিতে সবসময় ভারতের প্রভাব থাকে। তাছাড়া আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান জয় শাহ, যিনি আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন, এবং তার বাবা অমিত শাহ বর্তমান ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এই রাজনৈতিক উত্তেজনা ভারতের জন্য সময়ের দিক দিয়ে অনুকূল নয়। সম্প্রতি ভারতকে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে তারা ২০৩৬ অলিম্পিকস আয়োজনের জন্য বিডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই আয়োজনে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কাতার। এখন প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক কারণে ভারত আদৌ অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব পাবে কিনা? কারণ আইওসি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক।
অলিম্পিক চাটার অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে হবে, এবং কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় প্রভাব মেনে নেওয়া হবে না। উদাহরণস্বরূপ, ইন্দোনেশিয়াকে ইসরায়েলি দলকে ভিসা না দেওয়ার কারণে ২০৩৬ অলিম্পিকসের জন্য আলোচনার সুযোগ থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখা হয়েছিল। যদিও ভারতের বাজারকে লক্ষ্য করেই আসন্ন অলিম্পিকে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবে আইওসি কোনো অবস্থাতেই রাজনৈতিক সংকট মেনে নেবে না।