যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌক্তিক আলোচনায় প্রস্তুত ইরান

ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সবচেয়ে গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে তেহরান। ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। দেশটিতে সরকার কর্র্তৃক ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ ছিল ২ সপ্তাহের বেশি সময়। এই গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলাসহ বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুতের কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। জবাবে ইরান এরই মধ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর কড়া জবাব দেওয়া হবে। তবে গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি না হয়ে বরং আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইবে বলে তিনি আশা করছেন। যদিও তেহরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রভান্ডার নিয়ে কখনোই কোনো আলোচনা হবে না। ওভাল অফিসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন আমি এটুকু বলতে পারি, তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে চায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, আমরা কোনো অবস্থাতেই কারও কোনো ‘হুকুম’ বা চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেব না। তবে যেকোনো অর্থবহ, যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইরান প্রস্তুত।

ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি কোনো সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, হ্যাঁ, আমি দিয়েছি। তবে সেই সময়সীমা ঠিক কবে, তা তিনি প্রকাশ করতে রাজি হননি। ইরানের জলসীমামুখী যুক্তরাষ্ট্রের রণতরি বহরের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমাদের একটি বিশাল ‘নৌবহর’ এখন ইরানের দিকে আছে। আশা করি, আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। যদি চুক্তি হয়, তবে ভালো, আর না হলে কী হয়, তা দেখা যাবে। তবে ট্রাম্পের হুমকির মুখে ইরান কোনো আলোচনায় বসবে না বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এমন মন্তব্য করেছেন। তুরস্কের ইস্তাম্বুল সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাগচি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে যেকোনো আলোচনা হতে হবে ‘ন্যায়সংগত ও সমমর্যাদার’ ভিত্তিতে। হুমকির মাধ্যমে কখনোই কোনো আলোচনা শুরু হতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সম্ভাব্য আলোচনা কখন বা কী উপায়ে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আরাগচি জানান, এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো বৈঠকের সূচি ঠিক হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, হুমকির মুখে কোনো আলোচনা হতে পারে না। একই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইরানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশটিকে নিয়মিত সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং আরব বিশ্বের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দেওয়া সমর্থন বন্ধে ইরানকে বাধ্য করতেই এমন অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়েছে তেহরান। শনিবার ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আমির হাতামি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির পর ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেছেন, শত্রু যদি ভুল করে তাহলে নিঃসন্দেহে তা নিজের নিরাপত্তা, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তাকে বিপদের মুখে ফেলবে। আমির হাতামি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ও সামরিক প্রস্তুতিতে’ রয়েছে।