বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে 'বয়কট' শব্দটি গত কিছুদিন ধরেই খুব আলোচিত। ফুটবল বিশ্বকাপ কিংবা ভারত-শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বয়কট নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এবার হঠাৎ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও ‘ধর্মঘটে’ যাওয়ার মতো নজির সৃষ্টি করার পথে আছেন। সৌদি প্রো লিগের ২০তম রাউন্ডে আজ নগর প্রতিদ্বন্দ্বী আল রিয়াদের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করতে যাচ্ছেন রোনালদো।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম *আ বোলা*–র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরুতে যেভাবে দাবি করা হয়েছিল—আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে শারীরিক বিশ্রাম বা লোড ম্যানেজমেন্টের কারণে রোনালদো এই ম্যাচে খেলবেন না—বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। আল নাসরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) যেভাবে ক্লাবটি পরিচালনা করছে, তাতে স্পষ্টভাবে অসন্তুষ্ট রোনালদো। বিশেষ করে একই ফান্ডের মালিকানাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর তুলনায় আল নাসরকে কম গুরুত্ব ও কম বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
দল অধিনায়ক হিসেবে রোনালদোর মূল অভিযোগ—ক্লাবের স্কোয়াড শক্তিশালী করতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা হয়নি। চলতি শীতকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে আল নাসর মাত্র একজন খেলোয়াড়কেই দলে নিয়েছে—ইরাকের ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার হাইদের আবদুলকারিম।
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্লাবের কোচ হোর্হে জেসুস চাওয়া অনুযায়ী নতুন খেলোয়াড় পাননি।
এদিকে আল নাসরের ব্যবস্থাপনায় থাকা দুই পর্তুগিজ কর্মকর্তা—স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কৌতিনিয়ো এবং সিইও হোসে সেমেদোর ক্ষমতা চলতি মাসের শুরুতেই পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে স্থগিত করা হয়েছে।
এই সব ঘটনাই রোনালদোর অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে তুলনা টেনে বলা হয়, একই পিআইএফের অধীনে থাকা আল হিলাল ট্রান্সফার বাজারে অনেক বেশি সক্রিয়। তারা ফিওরেন্টিনা থেকে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাবলো মারিকে দলে নিতে দুই মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে। পাশাপাশি ফরাসি ক্লাব রেনেস থেকে তরুণ ফরোয়ার্ড কাদের মেইতেকে আনতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করছে।
শুধু তাই নয়, আল ইত্তিহাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার কারণে করিম বেনজেমার আল হিলালে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে এসেছে। পাশাপাশি ইতালিয়ান কোচ সিমোনে ইনজাগির অধীনে থাকা আল হিলাল নাকি আরও একজন ফরাসি অনূর্ধ্ব-২১ আন্তর্জাতিক ফুটবলার সাইমন বুয়াব্রেকে ৩০ মিলিয়ন ইউরোতে দলে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোনালদোর এই ‘বয়কট’ আল নাসরে অসন্তোষের প্রথম প্রকাশ নয়। চলতি জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে আল নাসর কোচ হোর্হে জেসুস প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তার বর্তমান ক্লাবের ‘আল হিলালের মতো রাজনৈতিক প্রভাব নেই’। ওই মন্তব্য সৌদি ফুটবলে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং এর জেরে আল হিলাল নাকি জেসুসের বিরুদ্ধে ছয় মাস থেকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞার দাবিও তোলে।