অচল বন্দর, হস্তক্ষেপের দাবি রপ্তানিকারকদের

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। টানা তিন দিনের বেশি সময় কর্মসূচি পালনের পর আন্দোলনকারীরা আরও ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এতে অচল হয়ে পড়েছে বন্দরের কার্যক্রম। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

গতকাল সোমবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ আহ্বান জানান বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান। একই দিনে সংবাদ সম্মেলন করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বিজিএমইএ দাবি করছে, চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান অচলাবস্থায় দেশের রপ্তানিনির্ভর শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতির ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বন্দরে কনটেইনার জট, জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।

বিজিএমইএ জানায়, তৈরি পোশাক শিল্প একটি সময়-সংবেদনশীল খাত, যেখানে নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে পণ্য রপ্তানি করা অত্যাবশ্যক। বন্দরে দীর্ঘসূত্রতার কারণে পণ্য চালানে বিলম্ব ঘটছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ক্ষুণœ করছে। এতে একদিকে রপ্তানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।