টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তের পেছনে বাংলাদেশের প্রতি সংহতিই মূল কারণ—এ কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে জানালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে রাজনীতির কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। পাকিস্তান ভেবেচিন্তেই এই অবস্থান নিয়েছে এবং বাংলাদেশের পাশে পুরোপুরি দাঁড়ানো উচিত বলেই সরকার মনে করে।
শাহবাজ শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা।
এর আগে রোববার এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকার জানায়, দল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচে মাঠে নামবে না। তবে সে সময় সিদ্ধান্তের কারণ জানানো হয়নি।
বাংলাদেশকে এবারের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে দলকে ভারতে যেতে অনুমতি দেয়নি এবং শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে আইসিসি বোর্ডের ভোটে (১৪–২ ব্যবধানে) সে প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। ওই ভোটে বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তানও সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
পিসিবি চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এর আগে এই সিদ্ধান্তকে আইসিসির ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এক দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম আর অন্য দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ভারতের ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে না আসার ঘটনাও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
এদিকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি পিসিবি। তবে আইসিসি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের পাশাপাশি বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সংস্থাটি পিসিবিকে সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে।
আইসিসির সঙ্গে এ বিষয়ে পিসিবির আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।