ইশতেহারে রাষ্ট্রসংস্কার থেকে আত্মনির্ভরতার বার্তা জামায়াতের

২৬টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ৪১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। যেখানে পুরো রাষ্ট্র কাঠামোকে আট ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেওয়া সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে ‘হ্যাঁ’ এবং দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে ‘না’ বলা হয়েছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্র সংস্কারের নানা দিক উল্লেখ করে বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশে শ্রমিকের সন্তানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে।

গতকাল বুধবার হোটেল শেরাটনে ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’ স্লোগানে ‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের ইশতেহার’ শিরোনাম দিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মৌলিক মানবাধিকার, আত্মনির্ভরতা, টেকসই অর্থনীতি, স্বনির্ভর কৃষি, মানবসম্পদ, সমন্বিত অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র, কার্যকর প্রতিরক্ষা নীতি এবং সবার সঙ্গে সাম্যতার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ইশতেহার ঘোষণার আগে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে গুরুত্ব দিয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূল্যায়ন করতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, এ দেশের পাহাড় এবং সমতলের ব্যবধান ঘুচিয়ে এক করব। সবাই আস্থার সঙ্গে মনে রাখবে এ দেশ আমার। পাহাড়ে অশান্তি আর দেখতে চাই না।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সাম্য ও ন্যায়ের বাংলাদেশ। তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন এ দেশের শিশুরা অন্য আরও উন্নত দশটি দেশের মতো সুযোগ-সুবিধা ও জীবন পাবে। রাষ্ট্র তাকে সহযোগিতা করবে। সমাজ তাকে অভিবাদন জানাবে। কৃষকের স্বপ্ন ছিল সে দেশের জন্য খাদ্য জোগাবে এবং বিনিময়ে সম্মান পাবে। শ্রমিক কলকারাখানায় কাজ করবে। এই শ্রমের বিনিময়ে সে সম্মান এবং সম্মানী পাবে।

তিনি আরও বলেন, কুটিরশিল্পীরা অল্প পুঁজি দিয়ে দেশ গড়ার কাজে হাত বাড়িয়ে সম্মান চায়। একজন নারীর মা এবং নারী হিসেবে কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন। সন্তান জন্ম দেওয়া, বুকের দুধ খাওয়ানো, সন্তানকে তিলে তিলে গড়ে তোলা। বিনিময়ে সে চায় সম্মান ও নিরাপত্তা।

ডা. শফিক বলেন, আমাদের দেশের মানুষের চাওয়া আকাশসমান নয়। সীমিত চাওয়া। এ চাওয়াটাও রাষ্ট্র পূরণ করতে পারেনি। বেকারত্বের যন্ত্রণায় হাহাকার করছে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। আমাদের কীসের অভাব? সম্পদের অভাব হলে তো ১৫ বছরে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হতো না। আমাদের অভাব দেশপ্রেমের। আমাদের অভাব সততার।

তিনি বলেন, ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ একই সুতোয় বাঁধা। ৪৭ না হলে ৭১ হতো না। ৭১ না হলে মানচিত্র পেতাম না। মানচিত্র না পেলে ২০২৪ সালের দেশকে গড়ার সুযোগ পেতাম না। তিনি বলেন, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার হলো ইশতেহার। আমরা এমন একটা বাংলাদেশ গড়তে চাই, যা সাধারণ মানুষ চায়। ৫ আগস্টের পর কেউ কেউ তার অতীত ভুলে গেছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুর বিষয়ে ডা. শফিক বলেন, আমি আহত সৈনিক। চতুর্দিক থেকে মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। যারা অন্যায়ভাবে আমার চরিত্রহনন করেছেন, তাদের সবাইকে মাফ করে দিলাম। আমার সঙ্গে প্রতিহিংসা যায় না। আমি বিশ্বাস করি আমাদের যুবসমাজ পটেনশিয়াল। তারা ইনোভেটিভ এবং প্র্যাগম্যাটিক। তারা পারবে। তাই যুবসমাজের আকাক্সক্ষা সামনে রেখে ইশতেহার তৈরি করেছি। এতে আছে মা ও শিশুসহ সবার জন্য আইডিয়া।

চাকরির আবেদন ফি মওকুফ : ইশতেহারে জামায়াতে ইসলামী জানায়, সরকারি চাকরির আবেদনে ফি নেওয়ার ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হন। এ বৈষম্য দূর করতে আবেদন ফি বাতিল করা হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সময়সীমাবদ্ধ করা হবে।

এ ছাড়া বেকারত্ব দূর করে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রধান কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে দেশের প্রতিটি জেলায় হিউম্যান স্কিল ডেভেলপমেন্ট জোন গঠনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

পাঁচ বছরে রপ্তানি দ্বিগুণ : ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে দেশের রপ্তানি ও বাণিজ্য খাতকে শক্তিশালী করতে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দলটির ইশতেহারে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে বৈচিত্র্যময়, আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করে রপ্তানির আয় দ্বিগুণ করা হবে।

শরিয়াহভিত্তিক কৃষিঋণ : কৃষকদের জন্য নতুন ধরনের কৃষিঋণ সম্প্রসারণ এবং শরিয়াহভিত্তিক কল্যাণমূলক ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারে দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

টেকসই কৃষি উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত; কৃষি উপকরণ (বীজ, সার, বালাইনাশক, যন্ত্রপাতি) উৎপাদন ও সরবরাহে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকের সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত; কৃষিপণ্যের টেকসই সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের নিশ্চয়তা ও চাহিদা-জোগান সমন্বয়; গুদাম, হিমাগার ও শুকানোর সুবিধায় বিনিয়োগ উৎসাহিত; কৃষিতে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও ঋণ সহায়তা যৌক্তিক হারে চালু রাখা বা বৃদ্ধি; দেশি ও বিদেশি, সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করে দেশের কৃষিকে রপ্তানিমুখী; আন্তর্জাতিক বাজার উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করা হবে।

শিশু ও বয়স্কদের বিনামূল্যে চিকিৎসা : ইশতেহারে শিশু ও প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ৫ বছরের নিচে শিশু এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। দলটি জানিয়েছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কমিয়ে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

সংস্কৃতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সংরক্ষণের অঙ্গীকার : স্বাধীন বাংলাদেশের স্বতন্ত্র ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পূর্ণাঙ্গ বিকাশ এবং সব ধর্মীয় স্বাধীনতা সংরক্ষণের অঙ্গীকার করেছে জামায়াতে ইসলামী। ইশতেহার অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য দলিলভিত্তিকভাবে সংরক্ষণ করা হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে অবহেলিত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া ইতিহাসভিত্তিক প্রামাণ্য ও সৃজনশীল চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দিনগুলোকে স্মরণীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হবে।

দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য জাতীয় সাংস্কৃতিক কমিশন গঠন এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন ২৬টি দপ্তর ও সংস্থা মানোন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে সংস্কৃতিচর্চাকে শক্তিশালী করা হবে। প্রবাসী নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কালচারাল সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সাহিত্যিক ও শিল্পীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানজনক পেনশন এবং শিল্পীকল্যাণ তহবিলের বাজেট বৃদ্ধি করা হবে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির বিষয়েও ইশতেহারে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারে আবু সাঈদ, হাদি, আবরার : ইশতেহারে জায়গা পেয়েছে জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদ, শরিফ ওসমান বিন হাদি (ওসমান হাদি) এবং আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের শহীদ বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ছবি।

প্রতি বছর বিদেশে ৫০ লাখ কর্মসংস্থান : প্রতি বছর বিদেশে ৫০ লাখ যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিদেশে গমনেচ্ছু বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মবাজার অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কম খরচে বিদেশ যাত্রার জন্য আন্তঃসরকার চুক্তি করবে। পাশাপাশি আগ্রহী প্রার্থীদের সহায়তা প্রদান এবং সহজ পদ্ধতিতে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি : পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিতকরণকে কেন্দ্রে রেখে ইশতেহারে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ওঠানামার প্রভাব কমাতে দেশীয় সম্পদের অনুসন্ধান ও ব্যবহার বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণ : আমদানি-নির্ভরতা কমাতে অনশোর ও অফশোর উভয় ক্ষেত্রেই দ্রুত এবং স্বচ্ছ গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমানো : পিডিবির সক্ষমতা বাড়িয়ে সিস্টেম লস হ্রাস ও বিদ্যুতের দাম কমানো হবে।

সৌর বিদ্যুতের দিকে দ্রুত রূপান্তর : ২০৩০ সালের মধ্যে বড় সোলার পার্ক নির্মাণ, ছাদের ওপর সোলার প্যানেল প্রণোদনা এবং নেট মিটারিং সম্প্রসারণের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দশগুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সমমর্যাদার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি : ঘোষিত নির্বাচন মেনিফেস্টোতে জামায়াতে ইসলামী পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও নীতিনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তুলতে চায়। মেনিফেস্টো অনুযায়ী, বিশ্বে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি নাগরিকদের মর্যাদা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশি পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মান বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জামায়াত পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে শান্তি, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে। ভারত, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও থাইল্যান্ডসহ প্রতিবেশী ও নিকট প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথাও মেনিফেস্টোতে তুলে ধরা হয়েছে।

কর্মসংস্থান ও শ্রমিক কল্যাণ : শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে ব্যাপক সংস্কার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এতে বেকারত্ব দূর করে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দলটি জানায়, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে তারা প্রধান কৌশল হিসেবে বিবেচনা করছে।

কার্যকর প্রতিরক্ষা স্বাধীনতার পূর্বশর্ত : কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টেকসই হতে পারে না এ দর্শন সামনে রেখে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা নীতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থা ও আধুনিক যুদ্ধ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী, আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।