চট্টগ্রামে আলোচনায় বক্তারা

নির্বাচনে তরুণরাই নির্ণায়ক শক্তি

চট্টগ্রামে এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তরুণদের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং সক্রিয়ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।এই নির্বাচনে তরুণদের ভোট নির্ণায়ক হিসেবে কাজ করবে।

তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তরুণরা তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এর ফলেই একটি তথাকথিত ‘ক্যাঙ্গারু সংসদ’গঠিত হয়। যা জনস্বার্থবিরোধী আইন পাস করেছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায়  ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘তরুণ, নির্বাচন ও ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ’শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় তারা দেশের দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের গুরুত্ব বোঝার ওপর জোর দেন এবং তরুণ প্রজন্মকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

আলোচনায় সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ১৬ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম কেন হয়েছে সে বিষয়ে তরুণ ভোটারদের সচেতন করা জরুরি। তাছাড়া মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তরুণ ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। আসন্ন নির্বাচনে প্রায় পাঁচ কোটি তরুণ ভোটার অংশ নেবেন, যা দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে তাদের একটি নির্ণায়ক শক্তিতে পরিণত করেছে।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান বলেন, তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও দেশপ্রেম সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত ও উন্নত নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।

এই নির্বাচনে আমাদের প্রতিপক্ষের যাদের অভিজ্ঞতা আছে  তারা তরুণদের সঙ্গে কথা বলবেন, তাদের সঙ্গে মিশতে কোন দ্বিধা করবেন না।নিজের সন্তান হোক, নাতি হোক বা বন্ধু হোক তাদের অতীত ইতিহাস শেখাবেন জানাবেন।কারণ ভুল হয়ে গেলে ১৩ তারিখ থেকে আফসোস করলেও লাভ নাই।

আইন ও বিচার বিভাগ বিষয়ক সেশনে বক্তারা বলেন, তরুণদের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সাক্ষরতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির অনৈতিক ব্যবহার ও ভুয়া তথ্য মোকাবিলা করা জরুরি। অবহিত ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণই একটি অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে বলে তারা মন্তব্য করেন।

আয়োজকরা জানান, এই গোলটেবিল আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জোরদার করা এবং একটি দায়িত্বশীল, সচেতন ও ভবিষ্যতমুখী সমাজ গঠনে অবদান রাখা।

ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তারেক আকবর খন্দকারের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো মঞ্জুরুল কিবরিয়া, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিষয়ক সেশনে কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি, শাসনব্যবস্থা, শিক্ষা, আইন, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ২৪ জন বক্তা অংশ নেন।

এছাড়া এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।