বাংলাদেশে আর পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি চলবে না : ডা. শফিক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এ দেশে আর রাজার ছেলে রাজা হবে না, বংশানুক্রমিক পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি চলবে না। রাজনীতি হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, রাজনীতি হবে দেশপ্রেম প্রমাণের মাধ্যমে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ীতেও স্থানীয় জামায়াতের জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া সকালে নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে নওগাঁ জেলার উদ্যোগে নির্বাচনী জনসভায়ও বক্তব্য দেন।

রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে শফিকুর রহমান বলেন, এ দেশে কোনো আধিপত্যবাদী রাজনীতি আর চলবে না। প্রতিবেশীসহ সারা বিশ্বের সঙ্গে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক থাকবে। সেই সম্পর্ক হবে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে। অমর্যাদাকর কোনো সম্পর্ক আমরা কোনো দেশের সঙ্গে চাই না। মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নারী-পুরুষসহ বহু নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, সাঁওতাল ভাই-বোনেরা আছেন। সবাইকে নিয়েই আমাদের বাংলাদেশ। আমরা আল্লাহর দরবারে ওয়াদাবদ্ধ, জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। জনগণের ভোটের মাধ্যমে, ভালোবাসা ও সমর্থনের মাধ্যমে আল্লাহ যদি এ দেশ পরিচালনার সুযোগ আমাদের দেন, ইনশাআল্লাহ কাউকে আর চাঁদাবাজি করতে দেব না। এ দেশে কারও দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না।

জামায়াত আমির বলেন, বোনেরা-মায়েরা ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলেসব জায়গায় নিরাপদ থাকবেন। মর্যাদার সঙ্গে শিশু জন্ম নেওয়ার পর তার পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের পরিচর্যার দায়িত্ব সরকারের। পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনা খরচে শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ। আর সারা জীবন জাতিকে যারা উজাড় করে দিয়ে একটা বয়সে পৌঁছে যাবেন, তাদেরও চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে সরকার। প্রত্যেকটি বিভাগীয় নগরী ও জেলায় জেলায় আমরা মেডিকেল কলেজ কায়েম করব এবং বিশেষায়িত হাসপাতালও গড়ে তুলব।

নারীদের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সচরাচর নারীদের সম্মানে কাজ করে আসছে। আমরা নির্বাচিত হলে বাংলাদেশকে নারীদের জন্য বসবাসের উপযোগী করে রাখব । এ দেশ জামায়াতে ইসলামীর অথবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এ দেশ আমাদের সবারসব শ্রেণির মানুষের, কৃষক, শ্রমিক, জনতার।

উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে জামায়াতের আমির বলেন, আপনারা এখন থেকে দোয়া করতে থাকুন, কোনো কালো চিল আসমান থেকে এসে ছোঁ মেরে যেন আমাদের স্বপ্নকে এলোমেলো করে দিতে না পারে। এখন থেকে পাহারা বসাবেন, কোনো ভোট ডাকাত, ভোট চোর, ভোট ইঞ্জিনিয়ারকাউকে এবার কোনো ছাড় নেই। সিনা মজবুত করে, হাত শক্ত করে আমাদের দাঁড়াতে হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কেরামত আলী। নগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় জনসভায় উপস্থিত ছিলেন দলটির নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা।

এদিকে নওগাঁয়ের নির্বাচনী সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেছেন, যুবক-যুবতীরা কারও কাছে দাবি করেনি যে তারা বেকার ভাতা চায়। কেউ দাবি করেনি বেকার ভাতা দিতে হবে। আজকে বেকার ভাতার প্রশ্ন উঠছে কেন? তারা তো সেদিন দাবি করেছিলআমরা হাতে হাতে কাজ চাই, আমাদের কাজ দিন। যুব সমাজকে কথা দিচ্ছি, শিক্ষা ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে মজবুত করে দেব। আমরা তাদের ভাষাভিত্তিক দক্ষতা এবং পেশাভিত্তিক দক্ষতাদুটোই তুলে দেব। সেদিন তাদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে বলব, এবার কাজ করো, দেশ গড়ো, দেশ তোমরা বদলে দাও।

জামায়াত আমির বলেন, নওগাঁ শহরের রাস্তাটা অত্যন্ত সরু। জামায়াত সরকার গঠন করতে পারলে এই রাস্তা ফোর লেন করা হবে। তিনি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ করার কথাও জানান।

তিনি বলেন, নওগাঁ খাদ্য ও ফল উৎপাদন করে সারা দেশে সরবরাহ করে, কিন্তু এ জেলা কখনো তার ন্যায্য পাওনা পায়নি। নওগাঁকে কৃষিশিল্পের রাজধানীতে পরিণত করা হবে। এ জেলায় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হবে।

জামায়াত আমির বলেন, এ দেশ শুধু মুসলমানের নয়। এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সাঁওতালবিভিন্ন ধরনের জাতিগোষ্ঠী নিয়েই এই ফুলের বাগান। আমাদের যুগ যুগ ধরে পরস্পরের মুখোমুখি লাগিয়ে রাখা হয়েছে। এ দেশের সব বৈধ নাগরিক এবং যারা এ দেশে বসবাস করেন, তারা সবাই বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সমান অধিকার ভোগ করবেন। এখানে কোনো বৈষম্য চলবে না।

এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের তিনি আগামী ১২ তারিখে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেন। জামায়াত আমির একটি দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাঘ মাসে মাথা গরম করে লাভ নেই, চৈত্র মাস সামনে। এখন যদি মাথা গরম করেন, তাহলে চৈত্র মাসে কী করবেন? মানুষ কী ভাবছে তা কান পেতে শোনেন, মানুষকে বোঝার চেষ্টা করেন। দেশ বাঁচবে, আপনিও বাঁচবেন, সবাই বাঁচবে।

নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী খ. ম. আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন নওগাঁ জেলা জামায়াতের নেতা ও প্রার্থীরা।