অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ
সিনিয়র কনসালট্যান্ট, নিউরোসার্জারি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
ব্রেন টিউমার মোকাবিলা করতে প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে এবং সময়মতো ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা নিলে নিরাময় সম্ভব। টিউমার প্রধানত দুই প্রকার। একটি হচ্ছে ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসার সৃষ্টিকারী টিউমার এবং অন্যটি বিনাইন টিউমার। ক্যানসার সৃষ্টিকারী টিউমারকে আবার প্রাইমারি টিউমার এবং সেকেন্ডারি বা মেটাস্ট্যাসিস টিউমার এ দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।
ব্রেন টিউমারের পার্থক্য
ম্যালিগন্যান্ট ব্রেন টিউমারে থাকে ক্যানসার কোষ, যেটি মস্তিষ্কের টিস্যুতে বেড়ে ওঠে এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজে বাধা দেয়। টিউমারের আকার ও সেটি কত তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠছে, তার ওপর নির্ভর করে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের গ্রেড বা ক্রমবিভাগ করা হয়ে থাকে।
রোগ নির্ণয়
তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা বা ঘোলা দেখা, কখনো কখনো রোগী অন্ধও হয়ে যেতে পারে, রঙ চিনতে অসুবিধা হওয়া, শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া, কথা বলায় অস্পষ্টতা, কখনো কখনো শরীরে খিঁচুনি হতে পারে। ব্রেন টিউমারের এই লক্ষণ দেখা দিলে নিউরোমেডিসিন বা নিউরোসার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ব্রেনের সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই ব্রেন টিউমার নির্ণয়ের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট। স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা দেখার জন্য ইলেকট্রোএনকেফালোগ্রাফি বা ইইজি টেস্ট করা হয়। স্নায়ুতন্ত্রের পরিবহন ক্ষমতা জানতে ইলেকট্রোমায়োগ্রাফি টেস্টের প্রয়োজন হয়। সিটি গাইডেড এফএনএসি হলো যেকোনো টিউমার বা ক্যানসার রোগ নির্ণয়ে অত্যন্ত নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা। স্টেরিওস্কোপিক বায়োপসি টেস্টে নির্ভুল রোগ নির্ণয়ের জন্য আক্রান্ত কোষের কিছু অংশ কেটে বের করে বিশেষ স্টেইনের মাধ্যমে মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা হয়। ব্রেন টিউমার নির্ণয়ে অত্যন্ত আধুনিক ও কার্যকর আরেকটি পদ্ধতি নিউরো নেভিগেশন অ্যাসিস্ট্যাড সার্জারি।
চিকিৎসা
ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা নির্ভর করে এর অবস্থান, ধরন, তীব্রতা ও আকারের ওপর। প্রয়োজন অনুযায়ী এক্ষেত্রে কখনো সার্জারির মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা হয়। এক্ষেত্রে মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচার করা হয়। এন্ডোস্কপি আরেকটি অত্যাধুনিক অস্ত্রোপচার পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে খুলি না কেটে নাকের ছিদ্র দিয়ে পিটুইটারি টিউমারের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার বা সার্জারির মাধ্যমে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্রেন টিউমার সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব। তবে নির্ভর করে টিউমারের ধরন ও অবস্থানের ওপর। কিছু ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপিরও প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসা সহজ হয়। সঠিক চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।