কক্সবাজারের চার আসনে রোহিঙ্গা ভোটারই ৫ লাখ

কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ। তার মধ্যে এক-চতুর্থাংশের অধিক পাঁচ লাখই রোহিঙ্গা। যারা ১৯৮০ সাল থেকে নানা কৌশলে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে ভোটার হয়েছেন। পুরো কক্সবাজারেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে রোহিঙ্গারা। ভোটার হওয়ার সুবাদে বেড়ে গেছে তাদের কদরও। রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা তাদের কাছে টেনে ভোট চাচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় কয়েক দিনের মধ্যে বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে যৌথ বাহিনী।

ভিনদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে ভোটার হয়ে যাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এলাকার লোকজনও ত্যক্ত-বিরক্ত। কক্সবাজার শহরের পাশাপাশি বেশি ভোটার টেকনাফ ও উখিয়া অঞ্চলে। জেলার চারটি আসনে রোহিঙ্গারা বেশি ভোটার হয়েছে গত সরকারের আমলেই। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ সময় এক লাখ পাঁচ হাজার নতুন ভোটার হয়েছে। বাকিরা ভোটার হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। তা ছাড়া দেড় বছরে ভোটার হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র পর্যন্ত সংগ্রহ করেছে রোহিঙ্গারা। তবে অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন শতাধিক রোহিঙ্গার এনআইডি স্থগিত করেছে। বছর-চারেক আগে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিক সাজিয়ে জন্মনিবন্ধন, ভোটার আইডি ও পাসপোর্ট করতে সহযোগিতা করায় চট্টগ্রাম সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমানকে আসামি করে একটি মামলার চার্জশিট দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই মামলায় অ্যাডভোকেট আবুল কালামকেও (নোটারি পাবলিক) আসামি করা হয়। ২০২১ সালের ২৫ মার্চ দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এ পাঁচ পুলিশ সদস্য, সাত পৌর কাউন্সিলর, দুই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও দুই সচিব এবং এক আইনজীবীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

সিএনজি অটোরিকশা ও টমটমচালক অনেকেই : স্থানীয়রা দেশ রূপান্তরকে জানান, কোনো বাধা ছাড়াই রোহিঙ্গারা পুরো কক্সবাজার চষে বেড়াচ্ছে। সিএনজি অটোরিকশা ও টমটম চালিয়ে সংসার চালাচ্ছে। উখিয়ার ক্যাম্প এলাকা থেকে সোনারপাড়া হয়ে কক্সবাজার সদরে আসতে উখিয়া কলেজ গেট, মেরিন ড্রাইভ সংযোগ সড়ক, রেজুখালী এবং হিমছড়িতে পুলিশ চেকপোস্ট থাকলেও চেহারা দেখেই অধিকাংশ যানবাহন ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখলেও কঠোর ব্যবস্থা নেই। একই অবস্থা কোর্টবাজার-কক্সবাজার লিংকরোড সড়কেও।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেশি-বিদেশি নাগরিক, এনজিওকর্মীসহ যেকোনো ব্যক্তির প্রবেশের ক্ষেত্রে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) অনুমতি বাধ্যতামূলক হলেও বাধা না থাকায় যে কেউ নির্বিঘেœ ক্যাম্পে যেতে পারছে। ফলে রোহিঙ্গাদের অপরাধের মাত্রা দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের আর্থিক অনুদান ও চোরাচালানের টাকায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের চারটি বিদ্রোহী সংগঠন আরসা, আরএসও, এআরএ ও ইসলামী মাহায নানা অপকর্ম চালাচ্ছে। সংগঠনগুলোর মাধ্যমে রোহিঙ্গা কিশোর ও তরুণদের নানাভাবে প্রলুব্ধ করার পাশাপাশি মাদক কারবারে সম্পৃক্ত এবং বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ারও চেষ্টা চালানো হচ্ছে। 

ক্ষোভ জানাল রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি : কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহাবুব রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লোভী জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব হাতিয়ে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। পুরো কক্সবাজারে ৫ লাখের মতো রোহিঙ্গা ভোটার আছে। তাদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা আশা করেছিলাম ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা তাদের ইশতেহারে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিলের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেবেন। কিন্তু ইশতেহার তো অনেক দূরের বিষয়, জেলার ১৯ প্রার্থীর সভা-সেমিনারের বক্তব্যেও রোহিঙ্গাদের ভোটার আইডি বাতিলের কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। এটি আমাদের জন্য লজ্জা ও হতাশার।’

রোহিঙ্গা ভোটার নিয়ে নিজের মনোভাব জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদিও প্রার্থীদের কাছ থেকে রোহিঙ্গা ভোটার বাতিলের প্রতিশ্রুতি চাওয়া বোকামি। কারণ দেশের বৃহৎ তিনটি রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াত ও নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগে রোহিঙ্গাদের দলীয় পদপদবি রয়েছে। তবু আমরা ভেবেছিলাম পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা দেশকে ভালোবেসে রোহিঙ্গা ভোটার বাতিলের জন্য কঠোর হবেন। কিন্তু জেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মনের ভাষা পড়তে ব্যর্থ হয়েছেন এসব প্রার্থী।’

শুধু রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নন, রোহিঙ্গা ভোটারদের আইডি বাতিল চান সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কক্সবাজার জেলার নেতারাও। তারাও আশা করেছিলেন, এবারের প্রার্থীরা আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোসহ ভোটার হওয়া রোহিঙ্গাদের আইডি বাতিল করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ভূমিকা রাখবেন।

এ বিষয়ে সুজনের কক্সবাজার জেলা সভাপতি অজিত দাশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ দেশে রোহিঙ্গারা ভোটার হওয়া মানে নিজ দেশে আমরা পরবাসী হওয়া। স্বার্থপর লোভী জনপ্রতিনিধিরা তাদের ভোটার করেছেন। তাদের আইডি কার্ড বাতিলের জন্য জেলাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রয়োজনে রাজপথে নামব। এর আগে আমাদের এমপি প্রার্থীদের কর্মকা- আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’

৭১ ইউনিয়নে রোহিঙ্গাদের বসবাস : পুলিশ সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার পেছনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ সদস্য, নির্বাচন কমিশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মাঠপর্যায়ের দালাল চক্র জড়িত। জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার করতে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ওইসব অর্থ একাধিক স্তরে ভাগাভাগি হয়। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি গোয়েন্দারা তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের হাইকমান্ডের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। কক্সবাজারের ৯ উপজেলার ৭১টি ইউনিয়নেই কমবেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। তা ছাড়া কক্সবাজার পৌরসভা, ঈদগাঁও, ঝিলংজা, পিএমখালী, উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে স্থায়ীভাবে বাস করা রোহিঙ্গাদের হার বেশি।

ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা : গোয়েন্দাদের তথ্য বলছে, মিয়ানমার থেকে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে জালিয়াতি করে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের এনআইডি পেয়েছে। প্রায় ৪০ ভাগের মতো রোহিঙ্গার হাতেই এখন এনআইডি। আর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাইয়ে দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা পকেটে ভরেছে একাধিক চক্র। কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ কয়েকটি স্থানে সরেজমিনে গিয়েও এসব তথ্যের সত্যতা মিলেছে। কয়েকজন দালাল এবং জালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি ও পাসপোর্ট করিয়েছেন, এমন তথ্য অকপটে স্বীকার করেছে কয়েকজন রোহিঙ্গা। তারা কীভাবে এসব অপকর্ম করেছে, তার ফিরিস্তিও দিয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তাদের রাখা হয় কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়ার আশ্রয়শিবির, বান্দরবান ও ভাসানচরে।

রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে বিদেশে ও দেশে চলে গেছে। কেউ আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা করছে। আগামী নির্বাচনে তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভোট দেবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।

যেভাবে হচ্ছে ভোটার : স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, বছর দু-এক আগে জন্মসনদ, কক্সবাজার পৌরসভার জাতীয়তা সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাগজপত্র নিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট করতে কক্সবাজার আঞ্চলিক অফিসে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ সুপাইত নামের এক রোহিঙ্গা। বাংলাদেশি এক বৃদ্ধ নারীকে নিজের নানি পরিচয় দিয়ে সঙ্গে নিয়ে যান তিনি; কিন্তু কথাবার্তা সন্দেহজনক ও আঙুলের ছাপে অসংগতি দেখে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে সুপাইতকে রোহিঙ্গা হিসেবে শনাক্ত করে তাকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিজানকে তলব করে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় কাউন্সিলর মিজান পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে তাদের নিয়ে আসেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা কাউন্সিলর মিজান।

তারই মতো মাহমুদুল হক মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন সাত বছর আগে। তার বাবা নুরুল হক ও মা ছেহের বেগমও আসেন বাংলাদেশে। মাহমুদুল উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক তরুণীকে বিয়ে করে এ দেশে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। দুই বছরের মাথায় তাদের ঘরে আসে একটি কন্যাসন্তান। এরই মধ্যে মাহমুদুল সৌদি আরবে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট। খুঁজে বের করা হয় বাদশা নামে এক দালালকে। ওই দালাল তার জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট করে দেওয়ার দায়িত্ব নেন। এজন্য তাকে দিতে হয়েছে অন্তত ১৫ লাখ টাকা। দুই মাসের মাথায় মাহমুদুলের হাতে চলে আসে বাংলাদেশের এনআইডি কার্ড। যার নম্বর ২২১২৬৬০০১৪৮০। ঠিকানা দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার সদরের পূর্ব কুতুবদিয়াপাড়া। পরে একটি পাসপোর্ট তৈরি করে তিনি চলে যান সৌদি আরব। তিনিও হয়ে গেছেন বাংলাদেশের ভোটার।

মোহাম্মদ ইয়াকুব নামের আরেক রোহিঙ্গা পেয়ে যান এনআইডি ও ই-পাসপোর্ট। তিনি আরও আগে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা মৌলবি আবু সালেহর আত্মীয়। তার সহযোগিতায় কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাসকারী আরেক পুরনো রোহিঙ্গা আমির হাকিমকে বাবা সাজিয়ে এনআইডি নিয়েছেন ইয়াকুব। ২০২২ সালে পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহর কাছ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকের সার্টিফিকেট নেন রোহিঙ্গা ইয়াকুব আলী। পরে তিনি ওই প্রত্যয়নপত্র দিয়ে এনআইডি সংগ্রহ করে ভোটার হয়ে যান। এখন তার হাতে আছে বাংলাদেশের পাসপোর্টও। এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ আছে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে।

নিরাপত্তার জন্য হুমকি : রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া নিরাপত্তার জন্য হুমকি দাবি করে জাতীয় নিরাপত্তাবিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের ভোটার হওয়া মানে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এরা এ দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে নানা অপরাধমূলক কর্মকা- করছে, যা দেশের স্বার্থবিরোধী।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতারা ভোটের রাজনীতি করেন। সেই সমীকরণ থেকে তারা রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিলের কথা বলবেন না। তবে দেশকে ভালোবেসে রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠে তাদের উচিত রোহিঙ্গাদের আইডি কার্ড বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া। এই সৎসাহস সব নেতার নেই। রাজনৈতিক নেতারা না চাইলেও প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু তদন্ত করে রোহিঙ্গাদের ভোটার আইডি বাতিলের পাশাপাশি যেসব জনপ্রতিনিধি ও অসাধু আমলারা এসব কাজে সহযোগিতা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। আর এই কাজ করার এখনই উপযুক্ত সময়। না হলে দেশের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে।

নজরদারিতে দালালরা : কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রতিটি রাস্তায় চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত যানবাহনে তল্লাশি চলছে। অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের ভোটার হয়ে গেছেন তা সত্য, বিষয়টি উদ্বেগের। রোহিঙ্গারা মাদক পাচারেও জড়িয়ে পড়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের এনআইডি, পাসপোর্ট ও ভোটার হতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সহযোগিতা করছেন দালাল হিসেবে পরিচিত উখিয়ার পালংখালীর জহির, মনখালীর শামসুল ইসলাম, কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়ার নাছির, হিমছড়ির বড়ছড়ার জসিমউদ্দিন, ঘোনাপাড়ার শাহাবুদ্দিন জনি, রুমালিয়ারছড়ার জাহাঙ্গীর, মসজিদ মার্কেটের নিচতলার মেহেদী, কালুর দোকানের বশির, হারুনসহ শতাধিক দালাল। তাদের নিয়মিত বিচরণক্ষেত্র পাসপোর্ট অফিস, আদালত চত্বর, পৌরসভা গেট ও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের আশপাশের এলাকা। এমনকি তাদের মধ্যে অনেকেই শহরে রীতিমতো অফিস খুলে বসেছেন প্রশাসনের নাকের ডগায়। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’