গম আমদানি, বোয়িং কেনা-সহ নানান খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলদেশ। এসব প্রতিশ্রুতিতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে আজ ওয়াশিংটন ডিসিতে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চূড়ান্ত চুক্তির আগে শুল্কের পরিমাণ আরও কমে আসতে পারে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় এ চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। যাবেন না বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানও। চুক্তি সই করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বাণিজ্যবিষয়ক আলোচক দল ওয়াশিংটন ডিসিতে গেছেন। তবে উপদেষ্টা ও সচিব চুক্তি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন।
তবে চুক্তির নানা শর্ত নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পরিষ্কার কোনো ঘোষণা আসেনি। কারণ এর আগে চুক্তির সবকিছু গোপন রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা এনডিএ সই করেছে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি আসে গত বছরের এপ্রিলে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের ২ এপ্রিল ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের জন্য হারটি ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে শুল্ক কার্যকর তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দিয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখে যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তিন মাস পর গত ৭ জুলাই বাংলাদেশের ওপর শুল্ক ৩৭ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ফাঁকে চলতে থাকে আলোচনা ও দর-কষাকষি। গত বছরের ১৩ জুন দেশটির সঙ্গে একটি এনডিএ সই করে বাংলাদেশ, যেখানে শুল্ক চুক্তি গোপন রাখার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়। ওয়াশিংটনে গিয়ে আলোচনা শেষে গত বছরের ২ আগস্ট পাল্টা শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয় ২০ শতাংশ। এ হার গত ১ আগস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ওপর শুল্ক রয়েছে ৩৫ শতাংশ।
এর মধ্যেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে বেশ কিছু খাতে আমদানি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ইতিমধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলাসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য আমদানি শুরু করেছে বাংলাদেশ। উড়োজাহাজ আমদানির জন্য বোয়িং-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ইত্যাদি আমদানি শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতিতে আজকের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ শুল্ক আরও কমতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি পণ্যে ট্রাম্প প্রশাসন যে বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, তা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘৯ তারিখে হতে যাওয়া চুক্তিতে আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায় (শুল্ক)। কতটুকু কমবে এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখব।’
অন্যদিকে চুক্তির শর্ত নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি সাপেক্ষে এটি প্রকাশও করা হবে।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, শুল্ক, অশুল্ক, ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, উৎস বিধি, জাতীয় নিরাপত্তা ও বাণিজ্য বিষয়ক বিভিন্ন শর্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।