জামায়াত নেতার বাড়িতে অস্ত্র ফেলে রাখার অভিযোগ

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল করিমের বাড়ির সামনে থেকে বস্তাভর্তি অস্ত্র রেখে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভোলা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনি প্রধান এজেন্ট এ এইচ এম ওয়ালী উল্লাহ। দলটি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে নৌবাহিনীর সদস্যরা মাওলানা নুরুল করীমের বাড়িতে দুই দফায় অভিযান চালান। পুরো বাড়ি তল্লাশি করলেও কোনো অবৈধ বস্তু পাওয়া যায়নি। তবে আজ সকালে তার ৭০ বছর বয়সী মা দেখেন, বাসার সামনে দেশীয় একটি বস্তায় অস্ত্র ফেলে রাখা হয়েছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং নেতাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা। তারা আশঙ্কা করছে, ভোলা-২ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অতীতের মতো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের চেষ্টা করছেন।

দলটি আরও জানায়, গতকাল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় মাওলানা নুরুল করীমের বড় ভাই মাওলানা রেজাউল করিমকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে হুমকি দেওয়া হয়। জামায়াত মনে করছে, অস্ত্র নাটকটি এই হুমকির অংশ বিশেষ।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “মিথ্যা অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও ভয়ভীতি দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করা যাবে না। আমরা শান্তি, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।” 

দলটি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মণ বলেন, আমাকে সকালে জানান যে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক বস্তা দেশীয় অস্ত্র বাড়ির সামনে পড়ে রয়েছে। আমি থানার ওসিকে জানাতে বললে তারা থানায় জানালে বস্তাটি থানায় নিয়ে যায়।

উপজেলা জামায়াত আমির মাকসুদুর রহমান বলেন, বাড়ির লোকজন থানায় গিয়ে অস্ত্রের ব্যাপারে অবগত করলে একজন এসআই এর নেতৃত্বে অস্ত্রগুলি নিয়ে যায়।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আমরা পরিত্যক্ত অবস্থায় কয়েকটা দা বগি দেখতে পেয়ে থানায় নিয়ে আসি। কে বা কাহারা ফেলে গেছে সে রকম কোনো তথ্য পাইনি।