চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ( চসিক) বিরুদ্ধে কিছু ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষায় মসজিদের সীমানা দেওয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরের চকবাজার দেবপাহাড় সংলগ্ন পার্সিভিল হিল ওয়েলফেয়ার সোসাইটিতে এই ঘটনা ঘটে। চকবাজার থানা পুলিশ নিয়ে চসিকের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোয়েব উদ্দিন খান উক্ত অভিযান পরিচালনা করেন।
পার্সিভিল হিল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি আতাউল হাকিম চৌধুরী খসরুর অভিযোগ, দেবপাহাড় ও পার্সিভিল হিল দুটি পাশাপাশি এলাকা৷ সীমানা দেওয়ালটি গড়ে তোলা হয়েছে পার্সিভিল হিল বায়তুল আমান জামে মসজিদ সংলগ্ন উত্তর পাশে। দেয়ালটি পার্সিভিল হিল এলাকার শেষ সীমানায়। মসজিদের পাশ দিয়ে কখনো দেব পাহাড় এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের পথ ছিলো না।
তিনি অভিযোগ করেন, চকবাজার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নূর মোস্তফা টিনু আর্থিক সুবিধা নিয়ে পার্সিভিল হিল সোসাইটির বায়তুল আমান জামে মসজিদের জায়গায় গড়ে তোলা সীমানা দেওয়াল ভেঙে দিয়েছিলেন। পরে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ফের সীমানা দেওয়াল গড়ে তোলা হয়।
অন্যকে আবাসন গড়ে তোলার সুবিধা পাইয়ে দিতে মসজিদের সীমানা দেওয়াল চসিক কীভাবে রাতের আঁধারে গুড়িয়ে দিতে পারে, এমন প্রশ্ন রেখে পার্সিভিল হিল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি আতাউল হাকিম চৌধুরী খসরু বলেন, অভিযান পরিচালনাকারী স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোয়েব উদ্দিন খানকে বার বার অনুরোধ করে বলেছি-অতীতে কোন সময় পার্সিভিল হিল এলাকা দিয়ে দেব পাহাড় এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের কোন রাস্তা ছিলো না। উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে মাননীয় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাতের কথাও বলিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তিনি আমাদের কোন কথা শুনেননি।
আবুল হাসান নামে পার্সিভিল হিল এলাকার এক বাসিন্দা প্রশ্ন রেখে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঠিক একদিন আগে রাতের আঁধারে চসিক ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান কেন। এটা তো চসিকের জায়গা না।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চসিকের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোয়েব উদ্দিন খানের নির্দেশে আরসিসি ঢালাই করা মসজিদের পাশের সীমানা দেওয়ালটি কিছু শ্রমিক ড্রিল মেশিন দিয়ে ভেঙে ফেলছেন। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন চসিক স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট সোয়েব উদ্দিন খান। তার আশপাশে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাত ৯টার দিকে চসিকের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোয়েব উদ্দিন খানের মোবাইলে কল করলে তা রিসিভ করে আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি নিজেকে চসিক আদালতের পেশকার পরিচয় দিয়ে বলেন, স্যার মিটিংয়ে আছেন।