বরিশালে নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে বহুমুখী অভিযোগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বরিশালের বিভিন্ন আসনে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এবি পার্টি সমর্থিত প্রার্থীরা হামলা, নির্বাচনি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন।

বুধবার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাব হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী রাজিব আহসান অভিযোগ করেন, পাশের আসনগুলো থেকে বহিরাগত নেতাকর্মীরা তার এলাকায় এসে অবস্থান নিয়েছেন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে দাবি তার।

অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার অভিযোগ করেন, এজেন্ট নিয়োগের সভায় বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করেছে। হামলার পর প্রশাসনের সহযোগিতা পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।

দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল করিম নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’, জাল ভোট ও কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা প্রকাশ করে কঠোর নজরদারির দাবি জানান। তিনি বরগুনা ও পটুয়াখালীতে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগও তোলেন।

এদিকে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে জামায়াত-সমর্থিত ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তার মাধবপাশা ইউনিয়নের নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না মিললেও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে বরিশালে প্রায় ১৬ হাজার আইনশৃঙ্খলা সদস্য মোতায়েনের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়েছে।