অন্তঃসত্বা স্ত্রীক মারধর করে গর্ভের সন্তানকে হত্যার অভিযোগ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মামলা প্রত্যাহার করে না নেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ নূপুর খাতুন (২৭) উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের গোবিন্দগর গ্রামের নুরুজ্জামানের মেয়ে।

গৃহবধূর স্বামী অভিযুক্ত আবু সাঈদ ওরফে মিস্টার (৩৮) একই উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের সোনাতলা সাখইল গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নূপুরকে বিয়ে করার পর থেকে তার নিকট যৌতুক বাবদ ৫ লাখ টাকা দাবি করেন আবু সাঈদ। কিন্তু দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায় নূপুরের ওপর চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক। কিন্তু নূপুর খাতুন গর্ভের সন্তানের কথা ভেবে শত নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে তার ওপর নির্যানের মাত্রা বেড়ে গেলে তিনি বাধ্য হয়ে গত বছরের ৬ অক্টোবর গোবিন্দগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

নুরুজ্জামান জানান, তার মেয়েকে আপোষের কথা বলে গত ১০ ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়ি নিয়ে যান আবু সাঈদ। এরপর আবু সাঈদ ও তার পরিবারের লোজজন ওই দিন সন্ধ্যায় মামলাটি তুলে নেওয়া জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।

নূপুর খাতুন জানান, তিনি মামলা তুলে নিতে অস্বীকার করায় আবু সাঈদ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং এলোপাতাড়ি মারধরের এক পর্যায়ে ৬ মাসের অন্তঃসত্বা এই গৃহবধূর তল পেটে কয়েকটি লাথি দিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নূপুরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার গর্ভে থাকা ছয়মাসের কন্যা সন্তানের অকাল গর্ভপাত ঘটে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডা.ফাহাদ আল আসাদ জানান, মূলত কি কারণে নূপুরের গর্ভপাত হয়েছে সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বোঝা যাবে। তবে পেটে আঘাতের কারণেও গর্ভপাত হতে পারে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।