চোটের কারণে একের পর এক বড় নাম ছিটকে পড়ায় খানিকটা দুর্বল দল নিয়েই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিযান শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সেই দুর্বলতার কোনো ছাপ রাখেনি তারা। কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডকে ৬৭ রানে হারিয়ে দারুণ জয় দিয়ে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আগেই দল থেকে ছিটকে গেছেন প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড। ম্যাচের আগে নতুন করে দুঃসংবাদ আসে অধিনায়ক মিচেল মার্শকে নিয়ে। কুঁচকিতে বলের আঘাতে তিনি এই ম্যাচে খেলতে পারেননি। ফলে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান ওপেনার ট্রাভিস হেড।
টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন হেড। তবে ব্যক্তিগতভাবে দিনটা ভালো কাটেনি তাঁর। মাত্র ৬ রান করে ফিরে যান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। হেড দ্রুত ফিরলেও দ্বিতীয় উইকেটে জশ ইংলিস ও ক্যামেরুন গ্রিন অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে গতি ফেরান।
১৭ বলে ৩৭ রান করেন ইংলিস, আর ১১ বলে ২১ রান যোগ করেন গ্রিন। এই জুটিতে আসে ৪৯ রান। এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও থিতু হতে পারেননি। ৯ বলে ৯ রান করে তিনি ফিরলে ১০ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৮৮ রান।
চাপের মধ্যে দলকে সামাল দেন ম্যাট রেনশ ও মার্কাস স্টয়নিস। পঞ্চম উইকেটে তাদের ৬১ রানের কার্যকর জুটিতে অস্ট্রেলিয়া আবার বড় সংগ্রহের পথে ফিরে আসে। রেনশ খেলেন ৩৩ বলে ৩৭ রানের ইনিংস। অপরপ্রান্তে স্টয়নিস ছিলেন আরও আক্রমণাত্মক। ২৯ বলে ৪৫ রান করে ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোরার হন এই অলরাউন্ডার। শেষদিকে কুপার কনোলি ও জেভিয়ার বার্টলেট দ্রুত রান তুলতে থাকেন। দুজনই অপরাজিত ছিলেন ১১ রান করে। নির্ধারিত ২০ ওভারে অস্ট্রেলিয়া তোলে ৬ উইকেটে ১৮২ রান।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় আয়ারল্যান্ড। ইনিংসের প্রথম বলেই এক রান নিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান অধিনায়ক পল স্টার্লিং। খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। পরের ওভারেই ম্যাথু কুনেমান ফেরান হ্যারি টেক্টরকে। এরপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে আইরিশ শিবির। আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং ভেঙে দিতে মূল ভূমিকা রাখেন নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা। পেসার এলিস মাত্র ১২ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন। লেগ স্পিনার জাম্পা নেন ২৩ রানে ৪ উইকেট।
মাত্র ৪৩ রানের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় আয়ারল্যান্ড। পরে আট নম্বরে নেমে জর্জ ডকরেল ৪১ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেললেও বড় ব্যবধানের হার এড়ানো সম্ভব হয়নি।
শেষ পর্যন্ত ১৬.৫ ওভারে ১১৫ রানে গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৮২/৬
(স্টয়নিস ৪৫, রেনশ ৩৭, ইংলিস ৩৭; অ্যাডাইর ২/৪৪)
আয়ারল্যান্ড: ১৬.৫ ওভারে ১১৫
(ডকরেল ৪১, টাকার ২৪; এলিস ৪/১২, জাম্পা ৪/২৩)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৬৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাথান এলিস