বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তাপ উপেক্ষা করেই অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে শুরু হলো বাবরি মসজিদ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কাজ।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় নিজের হাতে মসজিদের মূল ফটকের বেস ঢালাইয়ের মাধ্যমে এই কাজের সূচনা করেন বহিস্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা হুমায়ুন কবির।
গত ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদেই এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন হুমায়ুন। তবে নানা জটিলতায় থমকে ছিল নির্মাণকাজ। এদিন নির্দিষ্ট সূচি মেনে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে কংক্রিট ঢেলে কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে নতুন করে আবারও আলোচনায় এলেন এই বিতর্কিত নেতা।
নির্মাণ শুরুর আগে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চলে কোরআন তেলাওয়াত। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয় ১ হাজার ২০০ আলেম, মুফতি ও ধর্মীয় নেতাদের।
হুমায়ুন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে তার ধারণা ছিল মসজিদ তৈরিতে তিন বছর সময় লাগবে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি সংস্থা আশ্বাস দিয়েছে, দুই বছরের মধ্যেই কাজ শেষ করে দেওয়া হবে। পুরো প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ কোটি রুপি। শুধু মসজিদের মূল ফটকটিই তৈরি হবে ১৪ মিটার উঁচু ও ৫ মিটার চওড়া। শুধু এই গেট তৈরিতেই খরচ পড়বে আনুমানিক ৫ কোটি ৮০ লাখ রুপি।
হুমায়ুন জানান, আজ থেকেই শুরু হচ্ছে বাবরি যাত্রা। নদিয়ার পলাশী স্মৃতিসৌধ থেকে শুরু হয়ে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত ২৩৫ কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করবে এই যাত্রা। মসজিদ নির্মাণে নানা বাধা আসছে দাবি করে হুমায়ুন বলেন, আল্লাহ আমার সঙ্গে আছেন। কোনো বাধাই আমাকে আটকাতে পারবে না।
একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি নিজের রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (জেইউপি) গঠন করায় শাসক দলের সঙ্গে তার দূরত্ব বেড়েছে। এর জেরে সরকার ও তৃণমূলের তরফ থেকে তিনি ও তাঁর পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। নিজের মেয়ে-জামাইয়ের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এদিন তিনি বলেন, আমার মেয়ে-জামাইয়ের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে। আমি তা সহ্য করব না। সব প্রমাণ দেব। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এসপি অফিস ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন তিনি। ওইদিন এক লাখ মানুষ জড়ো করার কথাও ঘোষণা করেন হুমায়ুন।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদে মসজিদ নির্মাণ শুরুর একদিন আগেই উত্তরপ্রদেশের লখনউ থেকে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের একটি দল রওনা দেয় মুর্শিদাবাদের উদ্দেশে। তাদের দাবি, পুরনো বাবরি মসজিদের আদলে ও নামে কোনো মসজিদ তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, রাস্তা থেকেই ওই দলটিকে আটকানো হয়েছে। পাহারায় থাকা পুলিশের চোখ এড়িয়ে তারা মুর্শিদাবাদে ঢুকতে পারেনি।