চট্টগ্রাম নগরের শুলবহর এলাকায় ‘ভোট উৎসব’ চলছে। এসময় ভোটারা ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাসিত। এদেরই মধ্যে একজন বলেই বসেন ‘এবার সত্যিই ভোট হচ্ছে’। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় বাদূরতলা রেঁনেসা কিন্ডারগার্টেন নারী ভোটকেন্দ্রে সারিবদ্ধভাবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার কার্ড গলায় ঝোলানো কর্মীরা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
এসময় সেখানে অলিগলিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট লক্ষ্য করা গেছে। আর কিছুক্ষণ পরপর কেন্দ্রে নারী ভোটারদের নিয়ে আসছেন তারা। বাদূরতলার মূল আরাকান সড়কের দুইপাশের দোকানপাট বন্ধ। তবে খোলা আছে কিছু চায়ের দোকান। দোকানের সামনে ক্রেতারা ঘিচ ঘিচ করছেন৷
এ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা রহিমা বেগম বলেন, ভোট কেন্দ্রে তরুণীর উপস্থিতি বেশি। গত ১৫ বছর কেন্দ্রে গিয়ে আমরা ভোট দিতে পারিনি। এবার সত্যিই ভোট হচ্ছে। মহাআনন্দ লাগছে।
দুপুর দেড়টায় নগরের হামজারবাগ রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বাস্তবে ভোটের আমেজ দেখা গেল।
নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করে এ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা দেলোয়ার হোসেন নামের এক তরুণ বলেন, অনেক প্রাণের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে উৎখাত করেছি। আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তার আমলে কোন কোন ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৫ শতাংশ ভোট পড়েনি। অথচ দেখানো হয়েছে ৯০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। জেন-জিদের আন্দোলনের পরে এই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। খুবই ভালো লাগছে। এবার সত্যিই ভোট হচ্ছে।
এর আগে দুপুর ১টার দিকে হাটহাজারীর চিকনদন্ডি ইউনিয়নের দরবেশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
সেখানকার ভোটার মো. আমজাদ। তার বয়স ৫৯ বছর হবে। তিনি বলেন, অনেক বছর পরে নিজের ভোট দিচ্ছি। আগেরবার ভোটকেন্দ্রে এলেই বলতো ‘চাচা আপনার ভোট হয়ে গেছে বাড়ি চলে যান’। এবার ভালো লাগছে৷
দুপুর ১২ টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের ঝাউতলা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ভোটারদের লাইন নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন আনসার ও পুলিশ সদস্যরা।
এখানকার ভোটার ৩৫ বছর বয়সী ইমতিয়াজ বলেন, ভোটের এমন সুন্দর পরিবেশ আগের নির্বাচনগুলোয় দেখিনি। মনে হচ্ছে ঈদের আনন্দ।
এই কেন্দ্রে ভোট দিয়ে উচ্ছ্বসিত রেহেনা বেগম বলেন, আমি ভোট দিতে পেরেছি এটাই মহাআনন্দের। আগে তো আমাদের মূল্য ছিল না। এখন দেশের রাজনীতিবিদেরা আমাদের দাম দেবে।
চট্টগ্রামে মোট সংসদীয় আসন ১৬টি। এসব আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ ও হিজড়া ভোটার ৭০ জন। এসব আসনে প্রার্থী রয়েছেন ১১৫ জন। এর মধ্যে বিএনপির ১৬, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ১৬ ও স্বতন্ত্র ১০ জন।