নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

উচ্ছ্বাস-উল্লাসে তারকাদের ভোট প্রদান

সক  ল জল্পনা-কল্পনা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তা শেষমেশ রূপ নেয় উৎসবমুখর পরিবেশে। ভয়ভীতিকে দূরে রেখে উচ্ছ্বাস-উল্লাসে অনুষ্ঠিত হলো জাতির বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাধারণ জনগণের পাশাপাশি গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন দেশের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করেছেন অভিনয়শিল্পী, গায়ক-গায়িকারা। এই তালিকায় প্রজন্মের তারকাদের উপস্থিতি যেমন ছিল, তেমনি দেখা গেছে সোনালী যুগের শিল্পীদের। কেউ কেউ দীর্ঘদিন পর, কেউ কেউ আবার প্রথমবার ভোট প্রদান করে ভাসছেন উচ্ছ্বাসে। অনেক তারকাই সেই মুহূর্তের ছবি ও অনুভূতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে নাগরিক দায়িত্ব পালনের বার্তাও দিয়েছেন।

ভোট গ্রহণের প্রথম প্রহরেই কেন্দ্রে দেখ যায় বরেণ্য নাট্যজন আবুল হায়াতকে। রাজধানীর ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্ভুক্ত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে তিনি জানান, এবারের নির্বাচনী পরিবেশ তার কাছে শান্ত ও সুশৃঙ্খল মনে হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি চোখে পড়েনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভোট শেষে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে জনসমর্থন পাওয়া একটি দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব।’

তবে গতকালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল চলচ্চিত্রের তিন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সহদোর কোহিনূর আক্তার সুচন্দা, ফরিদা আক্তার ববিতা ও গুলশান আরা চম্পার সেই চিরচেনা উপস্থিতি। যেকোনো অনুষ্ঠানেই একসঙ্গে দেখা যায় তাদের। ব্যতিক্রম হলো না এবারের নির্বাচনেও। দুপুরে রাজধানীর গুলশান মডেল হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন ‘তিন কন্যা’। গাড়ি থেকে নেমে হাস্যোজ্জ্বলভাবে ছবির জন্য পোজ দেন তারা। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা জানিয়ে ববিতা বলেন, ‘দেশটা সুন্দরভাবে এগিয়ে নিক। আমরা দেশের সব মানুষ শান্তিতে যেন থাকি, দুর্নীতি যেন দেশে না থাকে। শিল্পীরা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘেœ শিল্পচর্চা করে যেতে পারে এটাই চাই।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকা-১৭ আসনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। সকাল ১১টায় গুলশানের মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন তিনি। ওমর সানী বলেন, ‘আমার জন্মের পর থেকেই নেতা হিসেবে আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবকে দেখেছি। এরপর সবার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আসলেন। তার নেতৃত্ব দেখলাম। এখন ওনাদের পুত্র তারেক রহমান সাহেব আসছেন। তিনি আমাদের সমসাময়িক নেতা। বয়সে কিছুটা সিনিয়র আমাদের। কিন্তু তিনি আমাদের সোনালী প্রজন্মের মানুষ। আমি ওনাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।’

দুপরে মিরপুরের ডেভেলপমেন্ট কমিটি (এমডিসি) মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ভোট শেষে তথ্য-

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আসলে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই আসুক, সে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য ভাববে। আমরা একটা সর্ব নিরপেক্ষ, ধর্মান্ধতামুক্ত বাংলাদেশ চাই। যেখানে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে যেকোনো মানুষ তার নাগরিক অধিকার ভোগ করবে, তার স্বাধীনতা বুঝে পাবে। এখানে কারও ওপর কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না।’

স্বামী মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে ভোট দিয়েছেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। ভোট দেওয়ার ছবি তিনি পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। বাক্সে ব্যালট রাখার ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ভবিষ্যতের পথ’। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও ফেসবুকে লিখেছেন, ‘একটি বিশেষ দিনে তৈরি একটি ইতিহাস যা সম্পর্কে আমরা অজ্ঞ ছিলাম। আজ আবরার ফাহাদ এর জন্মদিন। আর আনন্দ ও উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি অনুভব করছে। এই নির্বাচন শুধু দেশ চালানোর জন্য একটি দলকে নির্বাচন করতে যাচ্ছে না। আরও অনেক কিছুর পাশাপাশি বাংলাদেশিরা সরকারিভাবে দেশের মালিকানা ফেরত নেওয়ার দিন হিসেবে দেখা যাবে।’

 দুপুরের পর ভোট কেন্দ্রে আসেন আরও কয়েকজন জনপ্রিয় তারকা। নগরবাউল-খ্যাত ব্যান্ড তারকা মাহফুজ আনাম জেমস ভোট দেন রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বারিধারা স্কলার স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। এটি ঢাকা-১৭ নির্বাচনী আসনের অন্তর্গত। ভোট দিয়ে প্রতিক্রিয়ায় জেমস বলেন, ‘সুন্দর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই দেশ। সামনে যে আসবে, এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে। দেশে যেন শান্তি আসে, দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে।’ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। জেমস বলেন, ‘খুবই স্মুথ সব। এলাম, সিøপ নিলাম, ভোট দিলাম-সুন্দর। কোনো ঝামেলা নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে এর জন্য ধন্যবাদ।’

রাজধানীর একটি ভোট কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘আরও উন্নত বাংলাদেশের প্রত্যাশায় একজন নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করলাম।’ শরীয়তপুরে ভোট দিয়েছেন সাদিয়া জাহান প্রভা। তিনি বলেন, ‘পরিবেশটা একেবারে উৎসবের মতো। ঈদের সময় বাড়িতে এলে যেমন অনুভূতি হয়, ঠিক তেমন লাগছে।’

এবারের নির্বাচনে অনেক তরুণ তারকাই প্রথমবার ভোট দিয়েছেন। বিষয়টি বিচিত্র এক অনুভূতি বলে মন্তব্য করেছেন তারা। চিত্রনায়িকা তমা মির্জা তাদের একজন। রাজধানীর বাড্ডায় মহানগর কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন তিনি। ভোট দিতে নিজের গ্রামে যান অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেছে, ছুটির দিন তাই বাসায় বিশ্রাম নিতে পারতাম। কিন্তু আমি মনে করি, দেশের জন্য আমার একটি ভোটও গুরুত্বপূর্ণ। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই শরীয়তপুরে এসেছি। ভোট দিয়ে অনেক শান্তি লাগছে।’ চিত্রনায়িকা সুনেরাহ বিনতে কামাল, জান্নাতুল ঐশী ও টিভি অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানও প্রথমবার ভোট দিলেন। এই তিন তরুণ তারকার কাছে প্রথম ভোট কেবল নাগরিক দায়িত্ব নয়, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে নিজের মতপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

শেষ সময়ে ভোট দেন নায়িকা বুবলী।