মানিকগঞ্জে ‘বাবার আসন’ পুনর্দখল করলেন শান্ত–রিতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে দেখা গেল এক বিরল চিত্র—তিনটি আসনেই ধানের শীষের বড় জয়। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে বিএনপির দুই প্রার্থী—ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত ও আফরোজা খানম রিতা। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ফলাফলকে অনেকে বলছেন ‘বাবার আসন’ পুনরুদ্ধারের প্রতীকী বার্তা।

ফলাফল ঘোষণার পর দুই আসনেই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, জোড়া বড় ব্যবধানের এই জয় শুধু পারিবারিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার প্রত্যাবর্তন নয়—এটি মানিকগঞ্জের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন সমীকরণ ও ভোট প্রবণতার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

মানিকগঞ্জ-২: নয়ামিয়ার উত্তরাধিকার, শান্তর দাপুটে জয়

মানিকগঞ্জ-২ আসনে (১৮৬ কেন্দ্র) চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত পেয়েছেন ১,৭৫,৭৭৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সালাহ উদ্দিন (দেয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ৮১,৫৩১ ভোট। এ ছাড়া এস এম আব্দুল মান্নান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৭,০৮১ এবং ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আলী (হাতপাখা) পেয়েছেন ৩,৮৪৭ ভোট। ৯৪,২৪৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শান্ত আসনটিতে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ব্যবধান গড়েন।

এ আসনটি ( তত্কালীন মানিকগঞ্জ-০৪) একসময় প্রতিনিধিত্ব করতেন তার বাবা, সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুল ইসলাম খান নয়ামিয়া। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টানা তিনবার নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০৬ সালে তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন শান্ত। এবারের জয়ের মধ্য দিয়ে সেই পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য নতুন করে দৃশ্যমান হলো।

বিজয়ের প্রতিক্রিয়ায় শান্ত বলেন, মানিকগঞ্জের মানুষ পরিবর্তন, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই আস্থা রক্ষায় আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মানিকগঞ্জ-৩: রিতার রেকর্ড ব্যবধান, নতুন ইতিহাস

অন্যদিকে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে আফরোজা খানম রিতা পেয়েছেন ১,৬৬,১৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাঈদ নুর (রিকশা) পেয়েছেন ৬২,৯১৬ ভোট। ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১,০৩,২৫৯ ভোট—যা আসনটির ইতিহাসে অন্যতম বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রিতা সাবেক মন্ত্রী ও এ আসনের সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ খান মুন্নুর কন্যা। ২০০১ সালে তার বাবার বিজয়ের পর দীর্ঘ বিরতির পর এবার বিপুল ভোটে জয়কে দলীয় নেতাকর্মীরা দেখছেন ‘ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রিতা বলেন, এই বিজয় মানিকগঞ্জ-৩ আসনের মানুষের। উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমি নিরলস কাজ করে যাব।