৪ বছর পর গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত

অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে ৪ বছর বন্ধের পর গম রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত। এতে আবারও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে গম আমদানি শুরুর আশা করছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। ইতোমধ্যেই বন্দরের আমদানিকারকরা গম আমদানির প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নতুন এই নির্দেশনা জারি করে।

গত মৌসুমে ভারতে গমের রেকর্ড উৎপাদন ও সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণে গম মজুদ থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত গমের নায্যমূল্য নিশ্চিতে এই সিন্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। এর আগে অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ২০২২ সালের ১৩ মে রপ্তানি বন্ধ করেছিল ভারত সরকার।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক দিনেশ পোদ্দার জানান, গতকাল ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যে নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেকদিন ধরে গম রপ্তানি বন্ধ ছিল। তাদের নতুন নির্দেশনায় এখন গম আমদানিতে আর কোনও প্রকার বাধা নেই। গমের সাথে সাথে আটা, ময়দা আমদানির অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। কিন্তু বর্তমানে ভারতে যে গমের দাম আছে সেটি তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে ইউক্রেন বা রাশিয়া থেকে যে গম আসছে সেসব গম কম রেটে বিক্রি হচ্ছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার গম বর্তমানে বাংলাদেশে সাড়ে ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা কেজি দরে বেচা-কেনা হচ্ছে। বর্তমানে ভারত থেকে গম আমদানি করা হলে আমাদের দাম পড়বে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। সেক্ষেত্রে কিছুদিনের মধ্যে ভারতে নতুন গম উঠবে, তখন দাম অনেকটা কম হবে।

তিনি বলেন, গম আমদানিতে আর কোনও বাধা নেই, সে সময়ে খুব কম রেটে গম নিয়ে এসে বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এখন ভারতে যে গমের দাম রয়েছে তাতে করে গম আমদানি হতে হতে আরও ১৫ দিন বা ১ মাস সময় লাগবে। কারণ ভারতে নতুন গম না এলে আমদানি করা সম্ভব হবে না।