অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম থেকে বের হয়ে আসতে বিএনপিকে আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। সারা দেশে হামলা ও অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ চলতে থাকলে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবেন বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। গতকাল শনিবার রাতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। এ সময় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনে ৩০টি আসনে সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ এনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাতের আঁধারে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গেজেট প্রকাশ করে ফল রিভিউ করার সুযোগ বন্ধ করেছে। তবে যেসব আসনে কারচুপি হয়েছে, সেসব আসনের বিষয়ে রিভিউ করতে উচ্চ আদালতের দারস্ত হবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে জনগণের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে আমাদের। সংসদে গঠনমূলক ও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে জামায়াত।
এদিকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রুখতে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানানো হয়েছে।
গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মদদে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি শুরু হয়েছে যা গণতন্ত্রের জন্য সরাসরি হুমকি। ক্ষমতার উল্লাসে ভিন্ন মত ও প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির ওপর হামলা চালিয়ে তারা প্রমাণ করছে যে, তাদের লক্ষ্য গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নয় বরং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এগারো দলীয় জোটের নেতাকর্মী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন উচ্ছৃঙ্খলতা নয়; বরং সংগঠিত শক্তি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েমের অপচেষ্টা।
হামলা বন্ধ না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি : এদিকে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে সহিংসতা ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। সাম্প্রতিক মারামারি ও হানাহানির রাজনীতি বন্ধ না হলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ‘তিনটি লাশ’ পড়েছে। শতাধিক হামলার ঘটনা আমরা তালিকাভুক্ত করেছি। অথচ জুলাইয়ের আন্দোলন হয়েছিল ফ্যাসিবাদি কাঠামো ভেঙে দেওয়ার জন্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো একই মারামারি-হানাহানির রাজনীতি চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা নির্বাচনের পর দায়িত্বে এসেছেন, তাদের উচিত হবে প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।