অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে হারলেন বিএনপির রিয়াজুল

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের জন্মভূমি কাপাসিয়ায় এবারের নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আইউবী জয়লাভ করেছেন। এ আসনে হেরে গেছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান। তিনি সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহের ছেলে।

এ আসনে শাহ রিয়াজুল হান্নান পেয়েছেন ৯০ হাজার ৩৯০টি ভোট। তার চেয়ে ১১ হাজার ৩৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোট প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আইউবী। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৯টি। সালাহ উদ্দিন আইউবী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বর্তমানে গাজীপুর মহানগর মেট্রো সদর থানা জামায়াতের আমির। বিগত ১৯৯১ সালে ৫ম সংসদ নির্বাচন ছাড়া এর পরের সবগুলো নির্বাচনে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ।

শাহ রিয়াজুল হান্নানের এ পরাজয়কে বিএনপির নেতাকর্মী এবং স্থানীয়রা নানাভাবে বিশ্লেষণ করছেন। পরাজয়ের কারণ হিসেবে নেতাকর্মীরা অনেকগুলো বিষয় তুলে এনেছেন। বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঠে আওয়ামী লীগ নেই। বাবা বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। কাপাসিয়ার তৃণমূলের উন্নয়নে তার বাবার সময়কালকে সোনালি অধ্যায় ধরা হয়। বাবার রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততাও ছিল। সে হিসেবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও আছে তার। এরপরেও বিজয়ী হতে না পারার ক্ষেত্রে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ অনেকগুলো কারণকে দায়ী করছেন।

তাদের মতে, শাহ রিয়াজুল হান্নানের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে অতি আত্মবিশ্বাস। এছাড়া এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, ভোটারদের বাড়ি বাড়ি না গিয়ে শুধু ব্যস্ততম এলাকায় লিফলেট বিতরণ, দলীয় সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করা, দলীয় কোন্দল নিরসন করতে না পারা, গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করা, নেতাকর্মীদের ব্যাপক তদবির বাণিজ্য, অবৈধভাবে অন্যের জমি দখলসহ নানা কারণ পরাজয়ের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান বলেন, ‘অনেক অচেনা ভোটার কাপাসিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভোট দিয়েছেন। তাদের অন্য এলাকা থেকে এনে কাপাসিয়ায় ভোটার করা হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের অনেক আগে থেকেই ভোটার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ সংখ্যা অন্তত ৩০ হাজার।’

বিএনপির পরাজিত প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান বলেন, পরাজয়ের কারণগুলো এখনো এনালাইসিস করা হয়নি। এ ছাড়া হঠাৎ বিপুল সংখ্যক নতুন অচেনা ভোটারের বিষয়ে তারা খোঁজ নেবেন। তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অপকর্মের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ দায়ভারটা আমিই নেব। নিশ্চয় আমদের মধ্যে ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল। সেজন্য ভোটারদের মধ্যে রিফ্লেকশন হয়েছে। পরাজয়ের কারণসমূহ বিশ্লেষণ করে আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেব।’ ১১ দলীয় জোটের বিজয়ী প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আইউবী বলেন, ‘কাপাসিয়ার সব দলের, সব ধর্মের, সব বর্ণের লোকজন আমাকে সমর্থন দিয়েছে। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। সবাই মিলেমিশে কাপাসিয়াটাকে গড়তে চাই।’