নতুন মন্ত্রীদের জন্য ২৭ বাড়ি ও ৫০ গাড়ি প্রস্তুত

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ২৭টি বাড়ি প্রস্তুত করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, বেইলি রোড ও গুলশানসহ বিভিন্ন জায়াগায় এসব বাসা ধুয়ে-মুছে ঠিকঠাক করা হচ্ছে। দেয়ালে রঙ করা, ফার্নিচারসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার করছে সংস্থাটি। তাছাড়া মন্ত্রীদের নামে বাসা বরাদ্দের পর তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী মেরামত ও সাজসজ্জা করা হবে।

এদিকে পরিবহন পুল সূত্র জানায়, মন্ত্রীদের ব্যবহারের জন্য ৫০টি গাড়ি ও ড্রাইভার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বাড়ি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ২৭টি বাসা পেয়েছি। এগুলো মন্ত্রীদের বসবাসের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। অন্য বাসাগুলো বুঝে পেলে সেগুলোর সংস্কার করা হবে। সরকারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বাসা প্রস্তুত করব। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের মাধ্যমে বাসাগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে। রবিবারও (গতকাল) চারটি বাসা আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা আগে থেকেই সব গুছিয়ে রাখছি।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরই মধ্যে সংসদ সদস্যদের গেটেজ প্রকাশ করেছে সরকার। আগামীকাল সকালে সংসদ সদস্য এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, মন্ত্রীদের জন্য প্রায় ৪০টি সরকারি বাসা রয়েছে। যেখানে আগে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা থাকতেন। সেখানে কিছু বাড়ি আগে থেকে ফাঁকা ছিল। উপদেষ্টাদের ছেড়ে দেওয়া বাসাসহ এগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। সংস্কারের মধ্যে হাইজেনিক ওয়াশ, বাথরুম ফিটিংস পরিবর্তন এবং রঙ করার কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মন্ত্রিসভার আকারের ওপর নির্ভর করবে কতটি বাড়ি প্রস্তুত করা হবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী চাইলে যমুনা প্রস্তুত করবে সরকার : নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি নির্দেশনা আসেনি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বর্তমান বাসভবন ‘যমুনা’ প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রাথমিকভাবে চিন্তা করা হচ্ছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন, তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তিনি চাইলে নিজের বর্তমান বাসভবনেও থাকতে পারেন অথবা নতুন কোনো বাসভবন তৈরির নির্দেশনাও দিতে পারেন। তবে তাৎক্ষণিক ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে একমাত্র ‘যমুনা’ প্রস্তুত আছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী গণভবনে বসবাস করতেন। ওই বছর ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থ্যানের পর গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর থেকে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাসভবনের অনুসন্ধান শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার। সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানও নির্ধারণ করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

এ নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে দুইবার কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন স্থাপনের প্রস্তাব করে। উপদেষ্টা পরিষদ এই সুপারিশ গ্রহণ না করায় নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে তার বাসভবন কোথায় হবে।

তবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যমুনা ছেড়ে গেলে সেটি সংস্কার করে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করার প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সরকার। নতুন প্রধানমন্ত্রী চাইলে এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বাসা প্রস্তুত করে দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।