ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। এর পরপরই শপথ নেবে তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদ।
দক্ষিণ এশিয়ার ছয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ শপথ অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মোহামেদ মুইজ্জু ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. নালিন্দা জয়াতিসা শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজউদ্দিন মিয়া শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন।
এর আগে একই স্থানে আগামীকাল সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথগ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা হবে। সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে, সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য অনুরোধ করবেন। রাষ্ট্রপতি তাকে পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম প্রস্তাব করার জন্য অনুরোধ করবেন। এরপর নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপির অভিপ্রায়ে সংসদ প্লাজায়: বিএনপির অভিপ্রায়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান তিনি। তিনি আরও জানান, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। এ শপথ পাঠ করাতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আইন উপদেষ্টা বলেন, বিএনপি থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে জানানো হয়েছে, সংসদ সদস্যদের শপথের পরপরই সংসদীয় দলের প্রধান নির্বাচিত করবে তারা। আর বিকেল ৪টায় দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ হবে।
সাধারণত বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হয়। এখন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় কেন, এমন প্রশ্নে আইন ও বিচার উপদেষ্টা বলেন, ‘দক্ষিণ প্লাজায় শপথ, বিএনপি এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। আমার ধারণা যেটা, সেটা হচ্ছে যেহেতু আমাদের এ সংসদটা একটু ভিন্ন। আমরা জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার যে আত্মত্যাগ, এই গণঅভ্যুত্থান, অনেক আত্মত্যাগ, অনেক কষ্ট, অনেক বেদনা, অনেক প্রাণহানির বিনিময়ে আমরা এই সংসদটা পেয়েছি। তাছাড়া এই সংসদ প্রাঙ্গণে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এই সংসদটা অন্য সব সংসদের চেয়ে একটু ভিন্ন রকমের।’
আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই ঘোষণা এবং জুলাই সনদ এ দুটি বিষয় ঘিরে যে অনুষ্ঠান, সেটাও এই সংসদেই আয়োজন করা হয়েছিল। এই সংসদের দক্ষিণ প্লাজাটা আমাদের কাছে আরও বিভিন্ন কারণে স্মরণীয়। প্রয়াত নেত্রী খালেদা জিয়ার (বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী) জানাজা হয়েছিল এটার পাশের জায়গায়। আমাদের সবার প্রিয় শহীদ ওসমান হাদির জানাজা হয়েছিল এখানে। অনেক স্মৃতি জড়িত আছে এখানে। এ ছাড়া এটা আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটা বিভিন্ন যে ডকুমেন্টেশন সেটার প্রকাশের একটা জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সবকিছু বিবেচনা করে হয়তো উনারা (বিএনপি নেতারা) অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন, আমরা সেই অনুযায়ী আয়োজন করেছি।’
জাতীয় স্মৃতিসৌধ : নবাগত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন। এজন্য স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এদিকে সৌন্দর্যবর্ধন ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সর্বসাধারণের প্রবেশে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে সকাল থেকে সর্বসাধারণের জন্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, মন্ত্রিপরিষদের শপথের পর নবাগত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন। সেজন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রাঙ্গণ ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু বলেন, নবাগত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন। সে কারণে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সৌন্দর্যবর্ধন ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সর্বসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।